3:15 PM, 7 September, 2026

বাংলাদেশের সকল বিদ্যালয়ের কার্যক্রম স্থগিত: কোথাও কেউ নেই 

images

হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন, আজ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাংলাদেশের সকল বিদ্যালয়ের কার্যক্রম স্থগিত। ক্লাস করানোর কেউ নেই, বিদ্যালয়ে বিদ্যালয়ে হট্টগোল আর ভাঙচুর। বদ্যালয় কমটির সবাই কোনো শিক্ষককেই ফোনে পাচ্ছেন না। আচমকাই খবর বেরুলো, জনাব মোসলেহ উদ্দিন, সবাই বিএসসি স্যার নামেই চিনে। চিনে ভালো কথা কিন্তু বিদ্যালয় বাদ দিয়ে তিনি কাঁচাবাজারে সবজি বিক্রি করছেন কেনো? তাও আবার হাসিমুখে? ক্রেতাদের বলছেন সুন্দর করে, “নেন জনাব, নিজের গাছের কদু, কচি। খাইয়া মজা পাবেন।”

এই আশ্চর্য ঘটনা শুধু ঈশীগ্রামেরই না, সারা বাংলাদেশের শিক্ষকেরা বিদ্যালয়ে না গিয়ে যে যার যার মতো কাজ করছেন। কোনো কাজকেই তারা ছোটো করে দেখছেন না। যিনি যে কাজ পারছেন, পাচ্ছেন – করছেন। কোনো মিডিয়ার সাথেই কোনো কথা বলছেন না। এমনকি প্রত্যেক উপজেলায় শিক্ষা কার্যালয় থেকে মাইকিং করে জানানো হচ্ছে যে, “সম্মানিত শিক্ষকগণ, আপনাদের জ্ঞাতার্থে জানানো যাইতেছে যে, এই মুহূর্তে যে শিক্ষক যেখানেই অবস্থান করেন না কেনো, যতো দ্রুত সম্ভব বিদ্যালয় কার্যালয়ে উপস্থিত হইতে নির্দেশ দেয়া হইলো… …”।

এতো বড়ো একটা সমস্যা অতর্কিতেই দেশে ঘটে গেলো, কেউই ভাবতে পারছে না। বিভিন্ন টেলভিশন চ্যানেলে এই খবর প্রচার হচ্ছে, বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোড়িত হয়ে যাচ্ছে কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় একটাই, কোনো শিক্ষককে কোনো বক্তব্য দিতে দেখা যায়নি। এইবার ঘোষণা এলো, “ আজ রাতে দেশের প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন।” এতোকিছুর পরেও কাজের কাজ কিছুই হলো না। আমাদের বাংলাদেশের শিক্ষকেরা না হয় ক্লাস বাদ দিয়ে কেউ সবজি বিক্রি করছে, কেউ রাইড শেয়ার করছে, কেউ বাসায় বানানো খাবার বাইরে এনে বিক্রি করছে কিন্তু এই বাংলার সাংঘাতিক সুসন্তানেরা কিন্তু সাংবাদিকতা ছাড়েনি, তাদের হাতে বাহারি বাহারি চ্যানেলের মাইক। কিছু শিরোনাম এমন, “পেটের দায়ে রকশা চালাচ্ছেন শিক্ষক”, “এ কী হলো বিদ্যালয়ের?” এই শিরোনামগুলো সর্বনিম্নস্তরের অত্যন্ত সন্তর্পনে বলার বা চলনসই।

জাতির উদ্দেশ্যে ঘোষণা তেমন ফলপ্রসূ হলো না। ভাষণে বলা হয়েছিলো, “যে শিক্ষকেরা ক্লাসে ফিরবে না, তাদের চাকুরিচ্যূত করা হবে, প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাঁরা পেয়েছে কী? একটা জাতিকে … … ”। আর বাকিটা টুকটাক সব বাঙ্গালিই অনুমান করতে পারে। এই দেশে অনুমান করতে যে জ্ঞান লাগে, তা অর্জনের জন্য সুদূর চীনে যেতে হয়না, করিম মিয়ার চা দোকানে বসলেই হলো। এই করিম মিয়ার চায়ের দোকান আজব এক জায়গা। এই গ্রামে ভদ্রতা আর আভিজাত্য দেখাতে জনকতক পত্রিকা রাখলেও তাদের সারা দেশের খবর জানা সম্পূর্ণ হবেনা, যতোক্ষণ না করিম মিয়ার চায়ের দোকানের গরম চায়ের ধোঁয়ায় না এসে জমে।

দেশের শীর্ষস্থানীয় একটা টেলিভিশন চ্যানেলে জানানো হয়েছে ভয়ঙ্কর ভয়ঙ্কর সব খবর। সারাদেশে লুটপাট হয়েছে, যা ’৭১ এর বর্বরতাকেও হার মানায়, কিশোরগ্যাং-দের অত্যাচারে মেয়েরা বের হতে পারছে না, বিদ্যালয়ে না যেতে পেরে সেই সময়ে তারা জুয়া ও নেশায় আসক্ত হয়ে যাচ্ছে, স্থানে স্থানে খুন, ছিনতাই, রাহাজানি, ধর্ষণ ইত্যাদি বেড়েই চলছে ইত্যাদি ইত্যাদি ভয়ঙ্কর সব খবর কিন্তু যে লাস্যময়ী নারীটি খবর পড়ছিলেন মুখ গোমড়া করে, সেই ললনাই ঠোঁটের কোণে আলতো বিদ্রূপাত্মক হাসির রেশ নিয়ে জাতিকে জানালো,“আজ সাতদিনের মাথায় দেশের সকল সরকারি, বেসরকারি শিক্ষকেরা অব্যহতিপত্র জমা দিয়েছেন।” আমার মাথায়ই এলো না, এই খবরে তিনি হাসলেন কেনো। এক ফুটেজে দেখানো হচ্ছে, শিক্ষা কর্মকর্তা অব্যহতিপত্রের একটা বড়ো বান্ডেল রাগে, ক্ষোভে ছুঁড়ে ফেলে চিৎকার করে বলছেন, “ এইভাবে অব্যহতিপত্র জমা দেয়া যায় না”।

অল্প বয়সের একজন শিক্ষক হাত তুলে ভদ্র ভাষায় জানান, “এইভাবে অব্যহতিপত্র জমা দেয়া যায়, অবশ্যই যায়। বাংলাদেশ সংবিধানের প্রাসঙ্গিক ধারা অনুচ্ছেদ ৪০ (পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা) অনুচ্ছেদে বলা আছে, আইনের দ্বারা আরোপিত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে সকল নাগরিকের যেকোনো আইনসংগত পেশা বা বৃত্তি গ্রহণের এবং যেকোনো কারবার বা কার্যাদি পরিচালনার অধিকার থাকবে। এর আইনি অর্থ হলো – সংবিধান নাগরিকদের জোরপূর্বক কোনো চাকরিতে আটকে রাখা সমর্থন করে না। পেশা নির্বাচনের স্বাধীনতার অর্থ হলো—শর্তপূরণ সাপেক্ষে তা ত্যাগ করার স্বাধীনতাও নাগরিকের রয়েছে। স্যার, (জোরপূর্বক শ্রম নিষিদ্ধকরণ) সংবিধানের ৩৪(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যেকোনো প্রকার জবরদস্তিমূলক শ্রম নিষিদ্ধ। কোনো শিক্ষককে তাঁর অনিচ্ছায় জোর করে চাকরিতে বহাল রাখা এই অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। আর সরকারি ও বেসরকারি (এমপিওভুক্ত ও নন-এমপিও) শিক্ষকদের আইনি বিধান … ….”। শিক্ষা কর্মকর্তা আর বলতে না দিয়ে থামিয়ে দিয়ে বিনীতভাবে জিগ্যেস করেন, “ এইভাবে আপনারা সবাই একসাথে এমন করছেন কেনো? কী হলে এর প্রতিকার হবে, বলুন? আমরা নিজেরাও উপরমহলে জবাব দিতে দিতে ক্লান্ত!”আগামীকাল প্রেসক্লাবের সামনে আপনারা থাকতে পারেন, বিকেল তিনটায়। আপনারা যেহেতু জানতেই চাচ্ছেন, আমরাও জানিয়ে দিই।

তিলধারণের স্থান নেই প্রেসক্লাবের সামনে। একজন ৫৭ বছর বয়েসি ইতিহাসের শিক্ষক জনাব নিয়ামুল মুক্তা উন্মুক্ত গলায় বলতে শুরু করেন, “শিক্ষক শুধু একটি পেশা নয়, এটি সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের মূল কারিগর। একটি জাতির সার্বিক বিকাশে শিক্ষকের ভূমিকা রয়েছে । যেমন: মানসম্পন্ন মানবসম্পদ সৃষ্টি অর্থাৎ প্রকৌশলী, চিকিৎসক, গবেষক, বিজ্ঞানী থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সকল পেশাজীবী তৈরির পেছনে মূল কারিগর হলেন শিক্ষক ।  জ্ঞানদান ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করার নেতৃত্ব দেন তাঁরা।শিক্ষার্থীদের মধ্যে সততা, শৃঙ্খালা, ন্যায়পরায়ণতা এবং মানবিক মূল্যবোধের বীজ বপন করেন।কুপমন্ডূকতা, অন্ধবিশ্বাস এবং সামাজিক অবক্ষয় দূর করে সুস্থ সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখেন।ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলেন এবং তাদের মনে দেশপ্রেমের চেতনা জাগ্রত করেন। সংকটময় মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো মেধা ও নেতৃত্বের গুণাবলী তৈরি করেন। জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে দেন। চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা বজায় রেখে সমাজকে সত্য ও আলোর পথ দেখান। সংক্ষেপে বলতে গেলে—শিক্ষক হলেন জাতির মেরুদণ্ড সোজা করে রাখার মূল শক্তি এবং প্রগতির দিশারী।একজন শিক্ষক আর কী কী উদাহরণ দিলে বুঝা যাবে যে, একটা জাতির জন্য শিক্ষক ও তার ভূমিকা অপরিহার্য?

আপনারা আমাদের শর্ত রেখেছেন, মেনেছেন। আমরা কেউ কারও কথায়, আক্ষেপে, বক্তব্যে হাততালি দিবোনা। এইটা কোনো রাজনৈতিক মঞ্চ না। এইবার আপনাদের ধন্যবাদ দিয়ে আমি পরবর্তী আলোচনায় যাই। স্বাধীন বাংলাদেশে শিক্ষকদের প্রথম বৃহৎ ও সংগঠিত বেতন-ভাতা বৃদ্ধির আন্দোলন শুরু হয় ১৯৭৩ সালের মধ্যভাগে। এই আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল রাজধানী ঢাকা। বাঙালি শিক্ষকদের জাতীয় আন্দোলন ও অধিকার আদায়ের ঐতিহাসিক ঘটনাবলী কিছু তুলে ধরা হলো তাদের জন্য যারা জেগেও নাকে ঘানিভাঙা সরিষার ত্যাল মেখে ঘুমান। আগে ইতিহাস জানাই, পরে আসল কথা। আসুন, কিছু আন্দোলনের পটভূমি ও সময়কাল জানি। সময়টা ছিলো ১৯৭৩, স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রাথমিক ও বেসরকারি শিক্ষকদের চরম আর্থিক অনটনে দিন কাটাতে হতো।ওই সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ছিল প্রধানত ব্যক্তিমালিকানাধীন বা স্থানীয় কমিটির অধীনে, ফলে নিয়মিত বেতন মিলত না। তৎকালীন প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নেতৃত্বে ঢাকাসহ সারা দেশের শিক্ষকরা ঐক্যবদ্ধ হন। তারা সরকারি ভাতার দাবি ও শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণের (সরকারি করার) একদফা দাবিতে রাজধানী ঢাকায় অবস্থান কর্মসূচি, মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদানসহ ধর্মঘটের ডাক দেন।

তারপর সেই ঐতিহাসিক মাইলফলক ও ফলাফল আসে সেই ১৯৭৩ সালেই। শিক্ষকদের এই আন্দোলনের মুখে শেখ মুজিবুর রহমান দাবির যৌক্তিকতা অনুধাবন করেন। আন্দোলন ও পেশাগত ন্যায্যতার ধারাবাহিকতায় ১৯৭৩ সালের ১ জুলাই সরকার একসঙ্গে দেশের ৩৬,১৬৫ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ (সরকারি) করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এর মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ ৪৩ হাজার শিক্ষকের চাকরি সরকারি হয় এবং তাঁরা সরকারি নির্দিষ্ট পে-স্কেলের আওতায় বেতন-ভাতা পাওয়া শুরু করেন।

পরবর্তী ঐতিহাসিক শিক্ষক আন্দোলন (এমপিও ও বেসরকারি শিক্ষক) শুরু হয় ১৯৮০ সালের আন্দোলন (এমপিও প্রথার সূচনা)। বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক ও কর্মচারীরা ঢাকায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এর প্রেক্ষিতে ১৯৮০ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আমলে প্রথমবারের মতো MPO (Monthly Payment Order) ব্যবস্থা চালু হয় এবং সরকারি তহবিল থেকে ৫০% বেতন অনুদান দেওয়া শুরু হয়। ২০০২ সালের আন্দোলন ছিলো মূল বেতনের শতভাগ সরকারি কোষাগার থেকে দেওয়ার দাবিতে। আন্দোলন চাঙ্গা হলে ২০০২ সালে বেসরকারি শিক্ষকদের শতভাগ বেতন ভাতা এমপিও এর আওতায় আনা হয়।   বাংলাদেশে বেতন-ভাতা ও পেশাগত অধিকার বৃদ্ধির এই আন্দোলনের সূচনা ১৯৭১-পরবর্তী দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিতে শিক্ষকদের বাঁচিয়ে রাখার তাগিদ থেকেই উদ্ভূত হয়েছিল। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, আজও আমাদের বেতন নিয়ে আন্দোলন করতে হয়, আমাদের শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া ছাত্ররাই পুলিশ হয়ে আমাদের নির্যাতন করছে, আমরা সারাদেশ আজ একত্রিত হয়েছি, আজ আমরা কোনো আন্দোলন করবোনা। আমাদের প্রয়োজন আমরা যেকোনো কাজ করেই মেটাবো। আর ভিক্ষুকের মতো বেতন কাঠামো নিয়ে কথা তুলবো না আমরা। অন্যদেশের সম্মানীর সাথে আমাদের বেতনের সামঞ্জস্য দেখেন। অন্যদেশের ক্ষেত্রে সম্মানী আর আমাদের ক্ষেত্রে বেতন বলে কেনো উল্লেখ করেছি – জ্ঞানের আলোয় বুঝে নেবেন।

বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রতি ডলার ১৩০ টাকা হিশেব করে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের সূচনা বেতন ডলারের হিসেবে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত সূচনা পর্বে মাসে আনুমানিক $550 – $750 ডলার (বাড়ী ভাড়া ও অন্যান্য ভাতা সহ)। ভুটানের বেতন সূচনা পর্বে মাসে আনুমানিক $400-$500 ডলার ।উল্লেখ্য দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে ভূটানে শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা ও আর্থিক গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি । ২০১৯ সালের সংশোধনীতে শিক্ষকদের স্কেল অন্যান্য সিভিল সার্ভেন্টের চেয়ে বাড়ানো হয়। শ্রীলঙ্কায় বেতন: সূচনা পর্বে মাসে আনুমানিক $110 – $180 ডলার ।পাকিস্তান বেতন সূচনা পর্বে মাসে আনুমানিক $100 – $160 ডলার ।নেপাল বেতন সূচনা পর্বে মাসে আনুমানিক $220 – 300 ডলার।লজ্জা লাগছে, নিজেদের সম্মানীর তুলনা করতে। লজ্জা লাগছে, কেনো আমাদের মতো শিক্ষকদের খেতে হয়, কেনো সন্তান জন্ম দিই, কেনো ওদের চাহিদা পূরণ করতে তারিখের পর তারিখ গুণতে হয়। লজ্জা লাগছে একজন পিতা হিশেবে, একজন স্বামী হিশেবে, একজন শিক্ষক হিশেবে – সর্বোপরি একজন মানুষ হিশেবে।

জনাব নিয়ামুল মুক্তা এইবার থামলেন। তার চারপাশে যে জনতার স্রোত, তার কন্ঠনিঃসৃত শব্দের ধ্বণিতে মন্ত্রমুগ্ধের মতো তাকিয়েই রইলো আর তারা নিজেরাও টের পেলোনা টপটপ করে ঝরে পড়া চোখের জলের শব্দ। জনাব নিয়ামুল মুক্তা কাঁপছেন, তার মুখ কিছুটা উপরের দিকে তুলতেই ধপাস করে মঞ্চের উপরেই পড়ে গেলেন। চারিদিকে হায় হায় রব। তাঁর বুকে চাপ দিচ্ছেন কেউ এসে, কেউ এসে হাসপাতালের কথা বলছেন, কেউ-বা এসে পানি ঢালার কথা বলছেন।

ভেজা শরীর নিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে স্ত্রী রাহেলাকে ডাকেন, “এটা নিশ্চয়ই তোমার কাজ, আমার সারা শরীরে তুমিই পানি ঢেলেছো।” রাহেলা শব্দ না করে পাশের ঘরে চলে যান। জনাব নিয়ামুল মুক্তা ধপাস করে খাটের উপর বসে পড়লেন। শুধুই ভাবছেন, “ এটা কী ছিলো !”

 

 কামরুজ্জামান বাবু