4:34 PM, 21 April, 2026

একজন জীবন্ত কিংবদন্তি, অনন্য, অনবদ্য শিক্ষক তিনি

e

তিনি দেবিদ্বার সরকারি রেয়াজ উদ্দিন পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব মো: কামরুজ্জামান মজুমদার। অত্র বিদ্যালয়ের সুযোগ্য, নিষ্ঠাবান, শিক্ষানুরাগী এই মহান এক মহাত্মার শেষ কর্মদিবস ছিলো আজ। আজকের দিনটি দেবিদ্বার সরকারি রেয়াজ উদ্দিন পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় তথা পুরো দেবিদ্বারের জন্য অত্যন্ত বেদনার।  কেননা এই একজন প্রধান শিক্ষকের হাত ধরেই শুরু হয়েছিলো অত্র প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তনের ছোঁয়া আর এই পরিবর্তনের ছোঁয়ায় আশ্বস্ত ছিলেন সকল অভিভাবক।

ছবিঃ জনাব মো: কামরুজ্জামান মজুমদার – বিদায়ী বক্তব্য

দেবিদ্বার উপজেলার তথা এই নির্দিষ্ট গণ্ডির বাইরেও অনেকের ভেতরে নীরব ব্যথার ঘনঘটা। কিন্তু অন্ধকারাচ্ছন্ন কিছু শিক্ষিত ও অসাধু শ্রেণির একটা মহলে স্বস্তির ব্যাপার কারণ অন্যায়, দুর্নীতি, স্বজনপ্রিয়তা তথা নিয়মের ব্যতিরেকে হাঁটেননি। সুযোগ সন্ধানীদের এড়িয়ে গেছেন প্রাজ্ঞতায়। তিনি কোনো তাবেদারী মানেননি, চোখ রাঙ্গানী উপেক্ষা করে বলার মানুষ ছিলেন। যা নিয়ম নয়, নির্বিঘ্নে বলতেন –  আমি কিছুতেই নিয়মের বাইরে যেতে পারবো না। তিনি যা বলতেন, করেই ক্ষান্ত হতেন।

তিনি যখন আসেন – শতবর্ষী এই বিদ্যালয়ে ছিলো শূন্যতার সশব্দের হাহাকার। তখন ৫ জুন ২০২৩ খ্রি. তিনি এসেই বসে থাকেননি, শুরু করে দিলেন কর্ম পরিকল্পনা এবং তদানুযায়ী কাজ। এর পূর্বে তিনি কুমিল্লা জেলার সহকারি জেলা শিক্ষা হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন ২৭ মার্চ ২০১৯ খ্রি. থেকে ১২ জুন ২০২২ খ্রি. । সহকর্মীদের সাথে এমন আচরণ করতেন, বোঝাই যতোনা যে, এমন নিরহংকারী কেউ কী হতে পারে ! আবার এই তিনিই যখন নীতির ব্যাঘাত দেখতেন, সাথে সাথেই একদম উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতেন, কোনো সহকর্মী কোনো ভুল করতেন, প্রথমে বোঝাতেন – কারও সামনে অপদস্ত করতেন না। প্রয়োজনে নিজেই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতেন। এমনকি তাঁর অধীনস্ত চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের যাবতীয় খোঁজ খবর ছিলো নখদর্পণে।

২০২৫ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত একজন তরুণ শিক্ষক জনাব মোঃ আরমান হোসেন  তাঁর ফেসবুকের এক স্ট্যাটাসে লিখেন -” আমার প্রথম চাকরি, প্রথম কর্মস্থল, আর এখানে যাঁর অধীনে আমার কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছে — তিনি আমার প্রথম বস, আমার নিয়োগপত্রে স্বাক্ষরকারী এবং যিনি আর্টিকেল ৪৭ এ স্বাক্ষর করে আমার নিয়োগের বাস্তবায়ন করেছেন, তিনি আমাদের প্রধান শিক্ষক, জনাব মো: কামরুজ্জামান মজুমদার স্যার। তিনি শুধু আমার প্রথম বস না, আমার কাছে একজন অভিভাবকের মতো। একজন শিক্ষক, একজন পথপ্রদর্শক, একজন নীরব প্রেরণা।
ধার্মিকতা, নীতিবোধ, কর্মনিষ্ঠা, পর্বত সমান ব্যক্তিত্ব— সবকিছু যেন ওনার জীবনের প্রতিটি কাজে প্রতিফলিত হয়। আমি যখন দ্বিধায় পড়েছি — তিনি আমাকে সাহস দিয়েছেন। আমি যখন ভুল করেছি— রাগ না করে, কষ্ট না দিয়ে তিনি আমাকে শুধরে দিয়েছেন। আমি যখন বিপদে পড়েছি— কোনো শর্ত ছাড়াই তিনি আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন।  স্যার, আপনি হয়তো কখনো জানবেন না, আপনার প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা এবং শ্রদ্ধাবোধ কতটা গভীর! আপনার শাসন, আপনার উপদেশ, এমনকি আপনার নীরব প্রশ্রয় সবই আমার জীবন গঠনে অসাধারণ ভূমিকা রেখে চলেছে। আল্লাহ আপনাকে সুস্থ রাখুন, দীর্ঘজীবী করুন। আপনার মত একজন বিচক্ষণ, দক্ষ, মানবিক এবং শিক্ষক বান্ধব প্রধান শিক্ষকের ছায়া পাওয়া, আমার জীবনের একটি বড় প্রাপ্তি! শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় — আপনার একজন ‘ছোট সহকর্মী’।”
” শিক্ষাব্যবস্থায় আপনার মতো দূরদর্শী ও দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপকের উপস্থিতি সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। আপনার নেতৃত্ব, নিষ্ঠা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি আমাকে শুধু কাজ নয়, মানুষ হিসেবেও অনেক কিছু শিখিয়েছে। একজন বস হিসেবে আপনি সত্যিই অসাধারণ—কঠোরতায় শৃঙ্খলা, আবার আন্তরিকতায় আপনজনের মতো। জীবনের নিয়মে কর্মজীবনের একসময় পরিসমাপ্তি আসে, তবে আপনার অবদান ও স্মৃতি থেকে যাবে দীর্ঘদিন। অবসর জীবনের প্রতিটি দিন হোক সুস্থতা, শান্তি ও আনন্দে ভরপুর। আপনার আগামী দিনগুলো হোক আরও সুন্দর, প্রশান্ত ও অর্থবহ” বলে মন্তব্য করেন চাঁদপুর জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের কর্মকর্তা জনাব মানিক হোসেন
এই পর্যন্তই লিখে একজনকে তুলে ধরা যায় না। তাই জনাব মো: কামরুজ্জামান মজুমদার মহোদয়কে নিয়ে সরাসরি দেশের বার্তা’র পক্ষ থেকে তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মজীবন সম্পর্কে জানবো ।