3:44 PM, 27 March, 2026

ভর্তির মানদণ্ড লটারি নাকি পরীক্ষা

1

শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। আর মেধার মূল্যায়ন ছাড়া মেরুদণ্ড মজবুত করার স্বপ্ন আকাশে অট্টালিকা নির্মাণ করার নামান্তর। শিক্ষার যে কয়টি স্তর রয়েছে তার মধ্যে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তে লটারি নামক একটি অদ্ভুত ব্যবস্থা মেধাবী ও যোগ্য শিক্ষার্থীকে তার কাঙ্খিত প্রতিষ্ঠানে পড়ার অধিকার বঞ্চিত করে লক্ষ্যভ্রষ্ট শিক্ষার্থীকে ভর্তির সুযোগ দিয়ে মেধার জায়গা দখল করে রাষ্ট্র কোন ধরনের জাতি গঠনের স্বপ্ন দেখছিল তা জিজ্ঞাসার বিষয়। অনেকে খোঁড়া যুক্তি দিয়ে বুঝাতে চান যে, ভালো স্কুলে পড়ার অধিকার দুর্বল শিক্ষার্থীরও রয়েছে। অধিকার অবশ্যই আছে তবে তা শুধুমাত্র প্রতিযোগিতায় নিজেকে যোগ্য প্রমাণ করতে না পারার ব্যর্থতা ঢাকার জন্য।

অনেকে বলতে চাইবেন ভালো ছাত্র পড়িয়ে ভালো করার মধ্যে ক্রেডিট নেই। তাদের জন্য বলবো, ভালো বীজের জন্য উর্বর ভূমি আবশ্যক নতুবা অনুর্বর জায়াগায় পড়ে ভালো বীজও নষ্ট হয়ে যাওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে প্রাক প্রাথমিক থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষার পরিবর্তে বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে ভর্তি করানো যেতে পাতে। যারা ভর্তি যুদ্ধে লড়াই করতে প্রস্তুত, তারাই নিজেকে মেধাবী প্রমাণ করতে পারে। আর মেধাবীরাই দেশের প্রকৃত সম্পদ। সেই সম্পদকে বিশ্বমানের জন্য প্রতিযোগিতা করে, লড়াই করে বাঁচতে দিলে তারাই যুগান্তর আনবে।
কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাই কোচিং বন্ধ করতে না পেরে মেধার জায়গায় লটারি চালু করা হঠকারিতার সামিল। যারা বলেন পরীক্ষা পদ্ধতি শিক্ষার্থীর উপর মানসিক চাপ তাদের উদ্দ্যেশ্যে বলবো, এই মানসিক চাপ যতোটা না ভর্তির পরীক্ষার জন্য তার চেয়ে বেশি মানসিক চাপ কিছু অভিভাকই তার সন্তানকে রাতারাতি জ্ঞানী-গুণী বানিয়ে ফেলার মানসিকতার জন্য।
কাজেই শিক্ষা নিয়ে প্রশ্ন না তুলে শিক্ষাকে যুগোপযোগী, জ্ঞান, দক্ষতা ও মেধাভিত্তিক জাতি গঠনে প্রতিযোগিতামূলক করে শিক্ষার্থীদের বুঝতে দেন যে নিজেকে যোগ্য প্রমাণের জন্য পড়ালেখার বিকল্প নেই।

সোহেল মিজান

লেখক ও শিক্ষক, কুমিল্লা জিলা স্কুল।