ইহকাল ভোগে আওয়ামীলীগ-বিএনপি এবার পরকাল অর্জনে জামায়াত

অনুসন্ধানী রিপোর্ট:
বহুদলীয় রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য সাইফুল ইসলাম বিগত ফ্যাসিবাদের আমলে পুলিশের তালিকাভুক্ত আওয়ামী সন্ত্রাসী সহোদর আমিনুল ইসলাম বিষু’র পরিচয়ে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন ওয়ার্ড জুড়ে ,অতীত ভুলে ইহকাল ভোগে হয়েছেন আপন আরেক ভাই ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মরহুম ইসমাইল হোসেনের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার। নিজেকে বিএনপি নেতা পরিচয় দিয়ে পরকালের চিন্তায় এবং নিজের সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় নিজেকে ইউনিয়ন আমিরের শ্যালক পরিচয়ে পরকাল অর্জনে নির্ভার।
সাইফুল ইসলাম আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কাউন্সিলর হয়ে সদর ইউনিয়ন ৩নং ওয়ার্ডবাসীর চারিত্রিক সনদ প্রদানে প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা যায়। অথচ ওনার চরিত্রে কালো দাগের চিত্র কম নয়।
গুপ্ত কিংবা সুপ্ত সকল রাজনীতিবীদ হার মানবে মুক্ত সাইফুল ইসলামের রঙ রুপে। সাভার সদর ইউনিয়ন চাপাইন এলাকায় সবজির দোকানদার হিসেবে শুরু করা সাইফুল এখন বাজার নিয়ন্ত্রক। দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামে ত্যাগ স্বীকার করা বিএনপি নেতা কর্মীদের অভিযোগ সাইফুল ইসলাম গুপ্ত রাজনৈতিক দলের হয়ে সুপ্ত থাকলেও জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে তিনি মুক্ত রাজনৈতিক আদর্শ নিয়ে বিএনপির ইমেজ সংকট তৈরি করে যাচ্ছেন। সাভার বিএনপির ঘাটি হওয়ায় হয়তো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এর প্রভাব পড়বে না,তবে আগামী স্থানীয় নির্বাচনে এর প্রভাব ভোটের ফলাফল নির্ধারণে ভূমিকা পালন করবে।
পারিবারিক সমঝোতার ভিত্তিতে যেকোন মতাদর্শের আমলে অতীত,বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা মাফিক সাইফুল ইসলামের পরিবার কাজ করে থাকতেন, মূলত সাইফুল ইসলাম গং সমূহ পারিবারতন্ত্রে বিশ্বাস করেন ।
দীর্ঘ ফ্যাসিবাদ আমলে সাইফুল ইসলাম আওয়ামী সমর্থিত সাভার পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী আমিনুল ইসলাম ওরফে বিশু’র ভাই হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকতেন। ভাইয়ের পরিচয়ে সদর ইউনিয়নে বিরোধী মতের নেতাকর্মী এবং সাধারণ জনগনকে পুলিশি হেনস্তা ছাড়াও বিভিন্ন অত্যাচার করে থাকতেন।
ঢাকা -১৯ আসনের বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন, তারা এই পরিবারের বাহিরে নিজেদের নিয়ে যেতে পারেননি। আওয়ামী সাংসদ আমলে আমিনুল ইসলাম আর বিগত বিএনপি আমলে অপর ভাই ইসমাইল হোসেন ক্ষমতা পেয়েছেন। একমাত্র সাইফুল ইসলাম যে কিনা দুই আমলেই ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব দেখিয়েছেন।
সাইফুল ইসলাম দশম শ্রেণির গন্ডি অতিক্রম না করলেও শ্যালক কোটায় জামায়াত ইসলামীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চাপাইন এপিওভুক্ত স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য হয়েছেন। সন্ত্রাসী হিসেবে পুলিশের তালিকাভূক্ত থাকায় বিএনপি জোট সরকারের আমলে দেশত্যাগে বাধ্য হন এবং ফ্রান্সে পাড়ি জমায় আমিনুল বিষু। আওয়ামীলীগ সরকার আমলে দেশে ফিরে ‘সন্ত্রাস ও জঙ্গি নির্মূল কমিটির’ আহবায়ক নিযুক্ত হন। আহবায়কের নির্দেশে সাইফুল ইসলাম হয়ে উঠে ফ্যাসিবাদীদের সেনাপতির । সাইফুল ইসলাম বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটির ছবি ও তালিকা পুলিশের কাছে সরবরাহ করে থাকতেন। বিভিন্ন মেয়াদে তিনি তৎকালীন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আনোয়ার রানা, যুবদলের রুস্তম আলী, মো: রাজু, নাজমুল ইসলাম , ইকবাল হাসান , আব্দুস সাত্তার, বাসেদ মিয়া, মিজানুর রহমান, আসলাম শেখ, আরিফ,আজাদ,রনি,জুয়েল, সুজন,ঝলক,শাহীন সহ অনেক নেতাকর্মীকে রাজনৈতিক মামলার পাশাপাশি বিভিন্ন মামলায় হয়রানি করেছেন। বিরোধী দলের অনেক নেতাকর্মীরা নিজ এলাকায় বসবাস করতে না পেরে পরিচয় লুকিয়ে এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতেন, তাদের উপর নজরদারি করে থাকতেন এবং অর্থ আদায় করতেন এই সাইফুল ইসলাম।এককথায় ভাইয়ের আহবায়ক পদ ব্যবহার করে রাজনৈতিক মামলা বানিজ্যের জমজমাট ব্যবসা গুরু করেছিলেন সাইফুল ইসলাম।
দীর্ঘ ১৭ বছর বিএনপির কোন দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেননি সাইফুল। সহোদর বড় ভাই মরহুম ইসমাইলের উত্তরাধিকার সূত্রে জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি, জমি ক্রয় বিক্রয়ে নির্ধারিত মূল্য প্রদানে চাপ প্রয়োগ, খাস জমিতে ভাড়া উত্তোলন,দীর্ঘ পতিত জমির মালিকানা দাবিদারদের কাছ থেকে দেখভাল এর ভাড়া আদায় করে থাকেন,অন্যের জমি ভোগ দখল,বালু ভড়াট, অসহায় প্রবাসীদের পরিবারকে বিপদ ও উদ্ধার করতেন তিনি। সম্পর্কের এক পর্যায়ে অনৈতিক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা, মাদক ব্যবসায়ীদের অর্থ ও সরবরাহের সহযোগিতা, সুদের ব্যবসা পরিচালনা, নিয়মিত মদ গাঁজা সেবন, ইট-বালির ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, সম্পত্তি দখল ও উচ্ছেদ, মামলা বানিজ্য, জাল দলিল তৈরি করে জমির মালিকানা দাবির মতো ভয়াবহ অপরাধে জড়িত সাইফুল ইসলাম। বিভিন্ন খাত থেকে অর্থ আদায়, ফ্লাট ব্যবসা, বিচারের নামে অবিচার সহ বিএনপির ইমেজ নষ্ট করে এমন অনেক অপরাধ করে সাইফুল ইসলাম।
সম্প্রতি সাইফুল তার প্রভাব খাটিয়ে জমি ভড়াটের একাধিক কাজ এনে আনেন এবং মরহুম বড় ভাইয়ের ছেলে রাহাতের প্রতিষ্ঠানের নামে কাজ করে যাচ্ছেন। বছর জুড়ে জমি ভড়াটের একাধিক কাজ করে সাইফুল। গৃহ নির্মানে ইটের গাড়ি প্রতি বাজার মূল্য থেকে অতিরিক্ত তিন হাজার টাকা আদায় করে থাকে সাইফুল । ভাইপো রাহাতের প্রতিষ্ঠান থেকে ইট ও বালি ক্রয়ে বাধ্য গৃহ নির্মানের ঠিকাদারেরা। তার মনোনীত আওয়ামী ঠিকাদার রফিক, জামাল, মতি, হাফিজ গৃহ নির্মানে পূর্বের সিন্ডিকেট চালিয়ে যাচ্ছেন ।
পৌর বিএনপির স্থানীয় নেতাদেরকে অর্থের প্রলোভনে নিজ প্রয়োজনে ব্যবহার করেন। ময়লার ব্যবসা তার নিয়ন্ত্রিত সিন্ডিকেট চাপাইনের পাশাপাশি লালটেক ও সি আর পি এলাকায় কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন ।
আপন বোন জামাই সদর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর রহিম মাস্টারের কোটায় স্কুল কমিটি, মসজিদ কমিটি, উন্নয়ন কমিটি, সমাজ কমিটি একাধিক জায়গায় নিজের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করেছেন।
সদর ইউনিয়নে আওয়ামী -বিএনপি -জামায়াতের পারিবারিক সমঝোতায় কোনঠাসা আন্দোলন সংগ্রামে ত্যাগ স্বীকার করা ইউনিয়ন বিএনপির একরাশ নেতাকর্মীরা। সাইফুল ইসলাম ত্যাগীদের বিভিন্ন সামাজিক অপরাধে জড়িত থাকার মিথ্যা অপবাদে নাম জড়িয়ে মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে থাকেন। তাদেরকে সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবে কোনঠাসা ও বিতর্কিত করতে বিভিন্ন সাক্ষ্য প্রমাণ দাঁড় করান সাইফুল ইসলাম। উঠতি প্রতিবাদী কিশোরদের ইতিবাচক একতাকে ‘কিশোর গ্যাং’ উপাধি প্রদান করে পারিবারিক শাসনে কিশোরদের উপর মানসিক চাপ তৈরি করে সাইফুল। লাশ আটকিয়ে টাকা পরিশোধ, নিজের বাহিনী দিয়ে অটো রিকশা ক্রয় বিক্রয় করে থাকেন সাইফুল ইসলাম।
সামাজিক অপরাধে জড়িত নারীদেরকে তিনি বিভিন্ন ফ্ল্যাটে বসবাসের ব্যবস্থা করে,অনৈতিক শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে থাকেন। হানি ট্রাপের মতো অপরাধ করে বিভিন্ন সুবিধা আদায় করে থাকেন সাইফুল ইসলাম।জামায়াতের প্রস্তাবে চরিত্রহীন, মাদকাসক্ত, সুদের কারবারি সাইফুল ইসলাম ‘ইব্রাহীমা বায়তুন নূর মসজিদ’ কমিটির সভাপতি হয়েছেন। শীতকালীন ওয়াজ মাহফিলের নামে চাঁদা সংগ্রহ করা সহ পরকাল নিশ্চিতে জামায়াতের পক্ষে বিভিন্ন সুবিধা গ্রহণের পরামর্শ বা ধর্মীয় বানী প্রচার করে থাকেন সাইফুল ইসলাম।
সাম্প্রতিক সময়ে টাকার বিনিময়ে বাড়িওয়ালাদের পক্ষ নিয়ে ভাড়াটিয়াদের উপর অন্যায় অত্যাচার, চাপ প্রয়োগ সহ অসহায় নারীদের কু-প্রস্তাবের অভিযোগ বর্তমান সাভার থানায় তদন্তাধীন রয়েছে । আওয়ামী লীগের নেতা ও সমর্থক এমন একাধিকদের মামলা প্রদানের ভীতি প্রদর্শন করে বাজার মূল্য থেকে কমে বাড়ি বিক্রি করে অন্যত্র বসত গড়েছেন। সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সমর্থক রুস্তম আলী কম মূল্যে সাইফুলের মনোনীত পার্টিকে বসত বুঝিয়ে দিয়ে থাকে। বসত বাড়িতে অবৈধ গ্যাস লাইন ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে ও তিনি মাসিক টাকা আদায় করে থাকেন।
আওয়ামী লীগের সমর্থনে গড়ে উঠা অবৈধ সিন্ডিকেট সাইফুল ইসলামের ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া।মরহুম বড় ভাই ইসমাইলের বিবাহিত দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী ও সন্তানদের ওয়ারিশ বঞ্চিত করতে সাইফুল তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এছাড়াও বড় ভাইয়ের প্রথম স্ত্রীর মৃত ভাইয়ের বিধবা নিঃসন্তান স্ত্রীকে সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদের জন্য নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে থাকেন সাইফুল গং।
নকল প্রসাধনী কারখানা স্থাপন ও পরিচালনায় সহযোগিতা করার একাধিক প্রমাণ রয়েছে সাইফুল ইসলামের নামে। চাপাইন এলাকায় নিজ জমিতে কাঁচামালের ব্যবসার আড়ালে সাইফুলের রয়েছে ইজিবাইকের ব্যাটারি ক্রয় বিক্রয়ের গোপন ব্যবসা। চোরাই রিকশা কেটে ভাঙ্গারি হিসেবে বিক্রি করেন এই সাইফুল ইসলাম।
বিএনপির অনেকের মতে, রাজনৈতিক আদর্শ বিহীন অথবা গুপ্ত রাজনীতির মোড়ক উন্মোচনের অপেক্ষায় থাকা সাইফুল ইসলাম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ফলাফল বিপর্যয় ঘটাতে রাজনৈতিক পরিচয় গোপন করে রেখেছেন। সাংসদ নির্বাচনের ফলাফল সাইফুল ইসলামের সুপ্ত বা গুপ্ত রাজনৈতিক আদর্শ বা পরিচয় অপ্রকাশিত থাকলেও আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তার মুখোশ উন্মোচিত হবে বলে অনেকেই নিশ্চিত।
