,


প্রবাসীদের উচিৎ নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সকল অপকর্ম থেকে দূরে থাকা

সোহেল ডিএম রানা

— রিয়াদ, সৌদি আরবঃ

প্রবাস!!! নামটির সাথে কম বেশি সবাই আমরা পরিচিত। প্রবাস মানে মনের মধ্যে লুকিয়া থাকা হাজারও না বলা কথা, প্রবাস মানে প্রেয়সীর মুখে হাসি ফুটানোর ব্যর্থচেষ্টা করা, প্রবাস মানে দুঃখের সাথে বন্ধুত্ব্য গড়ে তোলা, প্রবাস মানে পরিবারের চালিকাশক্তি হওয়া ।

প্রবাস জীবনের সুখ দুঃখের কথা লিখতে গেলেই মনটা কষ্টে ভরে উঠে, কলম যেন থেমে যেতে চায়। বুকের মধ্যখানে অজানা এক শুন্যতা আসন করে বসে, পুরনো স্মৃতির খাতার প্রতিটি পাতা নতুন করে চোখের সামনে ভেসে উঠে নিজের অজান্তে চোখ থেকে অনাকাঙ্খিত কিছু জল ঝরে পড়ে। নিজেকে বড় একা মনে হয়, পাওয়া আর না পাওয়ার হিসেব মিলাতে পারি না।অবহেলা আর অনাদরের এই প্রবাসী জ়ীবনের ইতিবৃত্ত। স্বপ্নের প্রবাস বাস্তবে বিশাল আকারের এক দানব বললে ভূ্ল বলা হবে না। প্রবাস নামক দানবের আমরা যারা প্রবাসী তাদের জীবনের সাথে জড়িয়ে আছে অনাকাঙ্খিত হাজারো কাহিনী। কিছু কাহিনী সুখকর আবার কিছু কাহিনী খুবি দুঃখ ও বেদনাকাতর।

আমরা প্রবাসী। একদিকে যেমন আমরা সকল দুঃখ কষ্টকে জয় করে পরিবারের মুখে হাসি ফুটাই দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল ও সুনাম অক্ষুন্ন রাখি বিপরতি মুষ্টি কিছু বাজে মানুষের জন্য ঠিক ততটাই দেশের সুনাম নষ্টসহ নানা অপরাধমুলক কর্মকান্ড করে থাকি। তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি হলো মদ বা গাজা। একটি বিশেষ মহলের প্ররোচনায় কিছু স্বার্থান্বেশী মানুষ দেশেও যেগুলো করেছে প্রবাসে এসেও তারা এসকল নিষিদ্ধ কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত হচ্ছে। নিজে তো সেবন করিই পাশাপাশি দেশথেকে নতুন আসা টগবগে যুবকের হাতে তুলে দিচ্ছি শরীরের জন্য ভয়াবহ ক্ষতিকর এই নেশাদ্রব্য। বাড়ছে নেশাকারীর সংখ্যা বাড়ছে নতুন নতুন অপরাধ। আর এটা বেশির ভাগই হয়ে থাকে কোম্পানিতে কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যে। ছুটির দিনে সারারাত তাস খেলার পাশাপাশি প্রকাশ্যে চলে এই মাদক সেবন। বলার কেউ নাই? বাঁধা দিতে গেলে আসে তার উপর নির্মম অত্যাচার। রিয়াদের আল মাজাল, উমর হামাম, কাজ্জান,সমুচি,হারা,বাতা সহ সৌদি আরবের প্রায় সব জায়গায় চলে এ সব কর্মকান্ড। শুধু তাই নয় মাদকসেবন পাশাপাশি চলে নারী গঠিত অপরাধমুলক নিষিদ্ধ কর্মকান্ড। যদিও এর সংখ্যা আগে তেমন ছিলনা কিন্তু বর্তমান সরকারের কিছু আইন কানুন পরিবর্তন হওয়ায় এর প্রভাব ব্যাপক বিস্তার লাভ করেছে। আর তার মাশুল দিচ্ছি আমরা যারা সাধারণ মানুষ তারা, কেননা এই কিছু লোকের জন্য সকল বাংলাদেশী প্রবাসীরদের কথা শুনতে হয়। কারণ সৌদিদের চোখে আমরা হলাম তাদের সবথেকে নিকৃষ্ট মানুষ।

ধরুণ যে কোন একটা খারাপ কাজ অন্য কোন দেশের লোক করলে সে যদি সৌদিকে গিয়ে বলে এই কাজটা বাংলাদেশী কোন এক লোক করেছে তাহলে তারা একবাক্যে তা বিশ্বাস করবে। আমার নিজের দেখা একটা সত্য ঘটনা বলি। দাম্মার এর জুবাইল নামক এলাকায় দুই ইন্ডিয়ান মদ ও গাজার ব্যবসা করতো। তারা এগুলো নিজেরাই তৈরী করতো। পরবর্তীতে তাদের সাথে এক বাংলাদেশীকে নিল (তার নামটা আর বলছিনা) তার সাথে কন্ঠাক্ট ছিল সে শুধু মদ কিংবা গাজা কাষ্টমার এর কাছে পৌঁছিয়ে দিবে বিনিময়ে প্রতি ডেলিভারিতে সে ৫ রিয়াল পাবে অর্থাৎ বাংলাদেশী টাকায় ১০০ টাকা। কিছুদিন করার পর ঐ তিন ব্যক্তিকে পুলিশ হাতেনাতে গ্রেফতার করলো। ঐ দুজন বাংলাদেশী ভাইকে ফাঁসিয়ে স্বীকারোক্তিতে বললো এই ব্যবসা নাকি ঐ ভাই করে। সাথে সাথে সৌদি পুলিশ তা বিশ্বাস করে তাদের ছেড়ে দিলো আর বাংলাদেশী ভাইকে থানায় নিয়ে গেলো। পরবর্তীতে আর খোঁজ পায়নি প্রবাসী এই ভাইএর। এই হলো আমাদের প্রতি তাদের আস্থা কিংবা বিশ্বাস। সুতরাং আমরা যারা এই সকল নিষিদ্ধ কর্মকান্ডের সাথে সম্পৃক্ত তাদেরকে বলবো আপনারা ভাল হয়ে যান। আমার আপনার সোনার বাংলাটাকে কারো কাছে কলুষিত করবেন না। নিজের দেশটাকে ভালবাসুন। আপনার অপকর্মের ফল সকল প্রবাসীকে ভোগ করতে দিবেন না।

ভাগ্য পরিবর্তনের দৌড় ঝাঁপ দিতে আমরা প্রবাসে এসেছি। নিজের পরিবারের মুখে একটু হাসি ফুটাতে মাথার গাম পায়ে ফেলছি। দেশের মানুষ তো একবার মৃত্যুবরণ কিন্তু প্রবাসীরা কতবার মৃত্যুবরন করে আর কতবার বেঁচে উঠে তার হিসাব নেই। ভালভাবে বেঁচে থাকার জন্য স্বপ্ন দেখা অন্যায় নয়, প্রতিটি মানুষের জীবনে সুন্দর কিছু স্বপ্ন থাকে এবং এই স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দেয়ার সহজ উপায় হল প্রবাস গমন। জীবনকে নানা রঙ্গে সাজাতে হলে স্বপ্ন দেখা খুবই জরুরী, স্বপ্ন ছাড়া এই জীবন তো আর সাজানো যায় না, তাই স্বপ্নকে সম্বল করেই আমাদেরকে এগুতে হয়। স্বপ্নকে যত সুন্দর করে সহজে সাজানো যায় বাস্তবকে এত সহজে হাতে নাতে ধরে কাছে বসানো যায় না। স্বপ্নের সাথে বাস্তবের এই বিবাদ আজীবন থেকেই চলে আসছে যা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। আকাশের তারা দেখে আমরা কত ধরনের আশা পোষন করে থাকি। “আহারে যদি ঐ তারার দেশে যেতে পারতাম” সত্য কিন্তু অন্য কথা বলে। তারার বুকে বাস করা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয় কারন তারাকে মানুষের বাসযোগ্য করে সৃষ্টি করা হয় নি।এত কিছু জানার পরও তারার দেশে যাবার আকাঙ্ক্ষা থেকেই যায়। তার একটি মাত্র কারন আর তা হলোঃ যা নাগালের বাহিরে তাহা নাগালের মধ্যে নিয়ে আসার একান্ত চেষ্টা আর এরই নাম হল স্বপ্ন। স্বপ্নের কথা বলতে গিয়ে এপিজে আবুল কালাম আজাদ বলেছিলেন। — তুমি ঘুমিয়ে যে স্বপ্ন দেখো তা মুলত স্বপ্ন নয় বরং যে স্বপ্নটি তোমাকে ঘুমাতে দেয়না সেটিই প্রকৃত স্বপ্ন। সুতরাং যে স্বপ্ন নিয়ে আমরা এখানে এসেছি সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন নিজে করি অন্যকে করার সুযোগ দিই। সকল অর্পকমকে না বলি। মনের ভিতর দেশপ্রেম জাগ্রত করি- মনের মধ্যে এটি লালন করি — –নিশ্চয়ই একদিন সুন্দর হবে এই সমাজ ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী হবে আমার দেশ, আমরাই প্রবাসী, আমরাই বাংলাদেশ।

image_pdfimage_print




     এই বিভাগের আরও খবর

আমরা আছি ফেসবুকে