1:35 PM, 21 May, 2024

নয় বছর বয়সেই ডিজাইনার

৪ বছর বয়স থেকে ডিজাইনার হতে চেয়েছিল কাইরা। ৫ বছর বয়স থেকে সে সেলাই করে। আর ৯ বছর বয়সে সে বনে গিয়েছে পুরোদস্তুর ডিজাইনার!

আপনার বয়স যখন ছিল সবে ৯, তখন আপনি কী করতেন? নিশ্চয় পুতুলখেলা, ভিডিও গেমস বা হাত–পা ছড়িয়ে কার্টুন দেখায় ব্যস্ত ছিলেন, সেটাই তো স্বাভাবিক। আর এখানেই আর সব শিশু থেকে আলাদা কাইরা। সহপাঠীরা যখন ব্যস্ত ভিডিও গেমস, কার্টুন ব নিদেনপক্ষে হোমওয়ার্ক নিয়ে, তখন নিজেই নিজের ড্রেস তৈরিতে ব্যস্ত কাইরা। যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোতে থাকা কাইরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকের সেনসেশন।

কাইরার ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ে হাতেখড়ি ২০২০ সালে। কোভিডের আক্রমণে সবকিছু যখন বন্ধ, তখন বাসায় থাকতে থাকতে বিরক্ত হয়ে হাতে ছুরিকাঁচি তুলে নেয় কাইরা। তার প্রথম লক্ষ্য ছিল পোষা বিড়ালের জন্য একটা বিছানা বানানো। ছোটবেলা থেকেই মাকে দেখে নিজে নিজেই সেলাইয়ের কাজ শিখেছিল কাইরা। আর সে বিদ্যাই কাজে লাগিয়ে লকডাউনে তৈরি করে ফেলে বিড়ালের জন্য বিছানা। সেলাইয়ের প্রতি আগ্রহ দেখে মা তাকে কিনে দেন নতুন সেলাই মেশিন। আর সেখান থেকেই ডিজাইনার হিসেবে তার যাত্রা শুরু। এরপর থেকে কমবেশি প্রতিদিনই নিজের নিত্যনতুন ডিজাইন দিয়ে সে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোড়ন তুলছে।

তবে অন্যান্য ডিজাইনারের থেকে কাইরার ড্রেস ডিজাইন করার পদ্ধতি ভিন্ন। প্রফেশনাল ডিজাইনাররা যেখানে প্রথমে ডিজাইনের স্কেচ করে, তারপর প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র জোগাড় করে সম্পূর্ণ ডিজাইনটা করে; সেখানে কাইরা প্রথমে নজর দেয় তার কাছ থাকা সামগ্রীর ওপর। হাতের কাছে যা আছে সেগুলো দিয়েই তৈরি করে নতুন ড্রেস। শুধু তা–ই নয়, বিভিন্ন জায়গা থেকে নিজের ড্রেসের প্রেরণা নেয় কাইরা। ডিজনি সিনেমা ‘এনকান্তো’, ‘হ্যামিলটন’ থেকে ফিগার স্কেটিং—সবকিছু থেকেই প্রেরণা নিয়ে তৈরি করে নিত্যনতুন ফ্যাশনেবল পোশাক।

পুরোনো পোশাককে নতুন করতেও কাইরার জুরি নেই। বিভিন্ন থ্রিফট শপ থেকে কিনে আনা পোশাককে নতুন রূপ দেয় কাইরা। আর সেটাই হয়ে যায় ভাইরাল। টিকটকে ‘কাইরা রাই ডিজাইন’ চ্যানেলে প্রতিটি ড্রেস বানানোর ভিডিও আপলোড করেন মা টোনিয়া আরাগন। ৬ লাখেরও বেশি ফলোয়ারসমৃদ্ধ এই চ্যানেলের ভিডিওগুলোতে দেখা যায় কীভাবে প্রতিটি ড্রেসের পেছনে সময় ও শ্রম দিচ্ছে কাইরা। আর সে রকমই একটি ভিডিওতে কমেন্ট করে ভালোবাসা জানিয়েছেন মার্কিন ফ্যাশন ডিজাইনার ভেরা ওয়াং। সেখান থেকে এই মা-মেয়ে জুটি পৌঁছে গেছেন মার্কিন টেলিভিশনের পর্দায়।

আমেরিকান ডে টাইম টেলিভিশন শো ‘টুডে’তে হাজির হয়েছিলেন এই মা-মেয়ে। সেখানেই নিজের ফ্যাশন ডিজাইনের প্রেমে পড়ার গল্প করেছে কাইরা, ‘৪ বছর বয়স থেকেই আমার ইচ্ছে ছিল নতুন নতুন জামাকাপড় বানানোর। আর ৫ বছর থেকেই টুকটাক সেলাই করতাম। ভবিষ্যতেও ইচ্ছে আছে এটি নিয়ে অনেক দূর যাওয়ার।’ সব মিলিয়ে ফ্যাশন ডিজাইনকেই ভবিষ্যৎ হিসেবে নিতে চায় ৯ বছর বয়সী কাইরা। বান্ধবী আরিয়ানার সঙ্গে খুলতে চায় নিজের ফ্যাশন হাউস। এর মধ্যেই ফুলেফেঁপে উঠেছে কাইরার জনপ্রিয়তা, ধরে রাখতে পারলে যে ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল, তা বলাই বাহুল্য!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *