রবিবার, ১৩ জুন ২০২১, ০৭:৫৬ অপরাহ্ন
আক্রান্ত

৮১৫,২৮২

সুস্থ

৭৫৫,৩০২

মৃত্যু

১২,৯১৩

  • জেলা সমূহের তথ্য
  • ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২,৭১৪
  • বরগুনা ১,০০৮
  • বগুড়া ৯,২৪০
  • চুয়াডাঙ্গা ১,৬১৯
  • ঢাকা ১৫০,৬২৯
  • দিনাজপুর ৪,২৯৫
  • ফেনী ২,১৮০
  • গাইবান্ধা ১,৪০৩
  • গাজীপুর ৬,৬৯৪
  • হবিগঞ্জ ১,৯৩৪
  • যশোর ৪,৫৪২
  • ঝালকাঠি ৮০৪
  • ঝিনাইদহ ২,২৪৫
  • জয়পুরহাট ১,২৫০
  • কুষ্টিয়া ৩,৭০৭
  • লক্ষ্মীপুর ২,২৮৩
  • মাদারিপুর ১,৫৯৯
  • মাগুরা ১,০৩২
  • মানিকগঞ্জ ১,৭১৩
  • মেহেরপুর ৭৩৯
  • মুন্সিগঞ্জ ৪,২৫১
  • নওগাঁ ১,৪৯৯
  • নারায়ণগঞ্জ ৮,২৯০
  • নরসিংদী ২,৭০১
  • নাটোর ১,১৬২
  • চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৮১১
  • নীলফামারী ১,২৮০
  • পঞ্চগড় ৭৫৩
  • রাজবাড়ী ৩,৩৫২
  • রাঙামাটি ১,০৯৮
  • রংপুর ৩,৮০৩
  • শরিয়তপুর ১,৮৫৪
  • শেরপুর ৫৪২
  • সিরাজগঞ্জ ২,৪৮৯
  • সিলেট ৮,৮৩৭
  • বান্দরবান ৮৭১
  • কুমিল্লা ৮,৮০৩
  • নেত্রকোণা ৮১৭
  • ঠাকুরগাঁও ১,৪৪২
  • বাগেরহাট ১,০৩২
  • কিশোরগঞ্জ ৩,৩৪১
  • বরিশাল ৪,৫৭১
  • চট্টগ্রাম ২৮,১১২
  • ভোলা ৯২৬
  • চাঁদপুর ২,৬০০
  • কক্সবাজার ৫,৬০৮
  • ফরিদপুর ৭,৯৮১
  • গোপালগঞ্জ ২,৯২৯
  • জামালপুর ১,৭৫৩
  • খাগড়াছড়ি ৭৭৩
  • খুলনা ৭,০২৭
  • নড়াইল ১,৫১১
  • কুড়িগ্রাম ৯৮৭
  • মৌলভীবাজার ১,৮৫৪
  • লালমনিরহাট ৯৪২
  • ময়মনসিংহ ৪,২৭৮
  • নোয়াখালী ৫,৪৫৫
  • পাবনা ১,৫৪৪
  • টাঙ্গাইল ৩,৬০১
  • পটুয়াখালী ১,৬৬০
  • পিরোজপুর ১,১৪৪
  • সাতক্ষীরা ১,১৪৭
  • সুনামগঞ্জ ২,৪৯৫
ন্যাশনাল কল সেন্টার ৩৩৩ | স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ | আইইডিসিআর ১০৬৫৫ | বিশেষজ্ঞ হেলথ লাইন ০৯৬১১৬৭৭৭৭৭ | সূত্র - আইইডিসিআর | স্পন্সর - একতা হোস্ট

জনতার চোখে পুলিশ

কামরুজ্জামান বাবু
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১০ মে, ২০২১
  • ১১২ বার সংবাদটি ওয়েব থেকে শেয়ার

পুলিশ খারাপ, কিন্তু কেন? আসলেই কি তাই? হ্যাঁ, মাঝে মাঝে দু একজন খারাপ থাকবেই তাই বলে সমস্ত পুলিশ ডিপার্টমেন্ট খারাপ হয় কি করে? কিছু একটা হলেই আমরা পুলিশের চোদ্দগুষ্টি উদ্ধার করে ছাড়ি। হাতের পাঁচ আঙ্গুল যেমন সমান হয়না, এক বাপের ৭-৮ জন সন্তান থাকলে সবাই যেমন এক মাপের হয়না তেমনি এতবড় একটা ডিপার্টমেন্টে সবাই এক মাপের হয় কি করে? ভালোর মাঝে দু একজন খারাপ থাকবে এটাই স্বাভাবিক, এটা মেনে নিতেও হবে। জীবনে চলার পথে বিভিন্ন সময় আমার নিজের সাথেও কয়েকজন পুলিশের বাকবিতণ্ডা হয়েছে। তেমনি অনেক হেল্প ও পেয়েছি এই পুলিশের কাছ থেকেই। আমার নিজের সাথে ঘটে যাওয়া বাস্তব কয়েকটা ঘটনা শুধু আপনাদের সাথে শেয়ার করছি।

ঘটনা ১ঃ সম্ভবত ২০০৫ অথবা ২০০৬ সাল, পবিত্র মাহে রমজানের মাস।আমি তখন রাঙ্গামাটিতে কর্মরত, ১৫ দিনের ছুটি পেয়ে বাড়িতে আসছিলাম। রাঙ্গামাটি থেকে কিশোরগঞ্জ শহরে আসতেই ঘড়ির কাঁটা রাত ২ ছুঁই ছুঁই। তখন কিশোরগঞ্জ থেকে হোসেনপুরের যানবাহন ছিলো পেট্রোলচালিত টেম্পো। তাও আবার রাত ১১ টার পর আর পাওয়া যেতনা। আমি রেলস্টেশন থেকে আখড়া বাজার এসে রিক্সা খুঁজছি হোসেনপুর আসার জন্য (তখন বিকল্প হিসেবে পায়ে চালিত প্যাডেল রিক্সা ছিলো)। ৪-৫ টা রিক্সা দাঁড়ানো আছে কিন্তু এত রাতে কেউ আসতে রাজি নয়, ভাড়া তিন ডবল বাড়িয়ে দিলেও আসবে না। এদিকে আমার বাড়িতে আসতেই হবে। বলে রাখা ভালো, তখন সন্ধ্যার পরই হোসেনপুর-কিশোরগঞ্জ সড়কটি একেবারেই নিরাপদ ছিলনা। পথে ডাকাতের উৎপাত। আর এই ভয়টার কারনেই কোন রিক্সাওয়ালাই রাজি হচ্ছিলো না। তখন আমার সাথে প্রায় ৮ মাসের ৩০-৪০ হাজার টাকার মত ছিলো (তখন ওই টাকাই বিশাল কিছু অন্তত আমার জন্য)। একদিকে নিজের ভয় অন্যদিকে টাকার।

সব উপেক্ষা করে সাহস করে একটা রিক্সাওয়ালেকে ভাড়া ডাবল দিয়ে রাজি করিয়ে ফেললাম। রিক্সাওয়ালার রিক্সাও আমি নিলাম। কিন্তু মনে মনে ভয়টা লেগেই আছে। রিক্সা দিয়ে আসছি আর বিভিন্ন দোয়া দরুদ পড়ছি যেনো কোন বিপদ না হয়। আল্লাহ আল্লাহ করে প্রায় কাছাকাছি চলে আসছি। হোসেনপুর থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে আসতেই রাস্তার পাশ থেকে হঠাৎ আমার উপর একটা টর্চের আলো পড়লো আর বলে উঠলো এই দাঁড়াও। আমার প্রাণপাখী যেনো যায় যায়। তবুও বুকে সাহস নিয়ে আমার হাতে থাকা টর্চ মারলাম বিপরীত দিক থেকে আসা টর্চের দিকে। দেখলাম রাস্তার পাশে একটা টেম্পো দাঁড়ানো এবং তার ভিতরে ৪-৫ জন পুলিশের পোশাক পরিহিত লোকজন।

বুঝতে আর দেরি হলনা এরা পুলিশ সদস্য পেট্রোলে আছে। ওদের কাছে আসতেই সালাম দিয়ে আমি আমার পরিচয় দিলাম এবং জানতে চাইলাম থানার গাড়ি বাদে এই টেম্পোতে কেন। উনাদের উত্তর থানার পিকাপ ভ্যান অন্য রোডে পেট্রোলে আছে।এদিকের রাস্তাঘাট রাতে নিরাপদ নয় জেনেও আমি এতরাতে কেন আসলাম এজন্য একটু কড়া সুরেই জানতে চাইলো। আমি আমার অবস্থান এবং বিস্তারিত বুঝিয়ে বললাম। সব শুনে কোনপ্রকার বিরক্তি প্রকাশ না করেই বরং ফুল্লি হেল্পফুল ভাবেই বললো,আপনার আর কোন ভয় নেই, এখান থেকে বাকি রাস্তা নিরাপদ আছে আপনাদের ওইদিকে আমাদের আরেকটা পেট্রোল পার্টি আছে, আপনার কোন সমস্যা নেই, আপনি নির্ভয়ে যেতে পারেন, আমাদের পেট্রোল যদি ওদিকে থাকতো তবে আপনাকে আমাদের গাড়িতে করে দিয়ে আসতে পারতাম। এরপরও সমস্যা মনে করলে আপনি আমাদের থানার সামনে দিয়ে যাবেন তো একটু থানায় ইনফর্ম করবেন, থানা থেকেই আপনাকে বাড়িতে পৌঁছিয়ে দেয়া হবে। আমি ওদের কথা শুনে আনন্দে, আবেগে আপ্লুত হয়ে গেলাম। শুধু বললাম, কোন সমস্যা হবেনা ইনশাআল্লাহ, আমি যেতে পারবো। ওদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আসছিলাম আর বারবার কৃতজ্ঞতায় ওই পুলিশের প্রতিই শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে আসছিলো। ওরা ইচ্ছে করলেই বিভিন্ন কারন দেখিয়ে আমাকে হেস্তনেস্ত করতে পারতো, কিন্তু পেলাম ভালবাসা।

 

ঘটনা ২ঃ সময়টা ২০১৬ সাল, আমার নিজস্ব বাইকে করে আরেকজন বড় ভাইকে সাথে নিয়ে হোসেনপুর যাচ্ছি। থানার সামনে যেতেই পরলাম ওদের ভ্রাম্যমাণ মোবাইল কোর্টের সামনে।একদম নতুন বাইক, নেই বাইকের লাইসেন্স, নেই আমার নিজের লাইসেন্স। আমার বাইকের সামনে এক পুলিশ কনস্টেবল এসে সাইড করতে বললেন। সাথে থাকা বড় ভাই খুব ভয় পাচ্ছিলো, আমি ভাইকে বললাম চিন্তা করোনা কপালে যা আছে তাই হবে।

বাইক সাইড করার সাথে সাথেই সাব ইন্সপেক্টর পদবীর একজন একটু ধমকের সুরেই চাবি দিতে বললো এবং কাগজপত্র নাই কেন জানতে চাইলো। আমি বাইক থেকে নেমে নম্র হয়ে সালাম দিয়ে প্রথমেই পরিচয়টা দিলাম, এবং বললাম বাইক মাত্র সপ্তাহ দুয়েক হলো নিয়েছি তাই কোন কাগজ নেই ভাই। আর লাইসেন্স? বুঝতেই তো পারছেন একটা জব করি ৩-৪ মাস পর পর বাড়িতে আসি বাইক চালানোর সময় কই? তাই লাইসেন্স করিনি। জানতে চাইলো তাহলে বাইক কে চালায়, আমি বললাম, জি ভাই আমার ছোট ভাই চালায়। আর বেশি কিছু না বলে শুধু বললো, বাইকের কাগজটা করে নিবেন ভাই। বলেই বাইকসহ আমাকে চলে যেতে বললেন। আমি আবারও তাদের ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে গেলাম, চাইলেই আমাকে অপমান করতে পারতো অথবা কাগজপত্র না থাকার কারনে একটা মামলা ঠুকে দিতে পারতো কিন্তু তা করেননি। আবারও ওই পুলিশের প্রতি শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে আসলো।

 

ঘটনা ৩ঃ ২০১৮ সাল, দিন তারিখ মনে নেই। আমি খুব টিপটপ হয়ে কমপ্লিট ড্রেস পড়ে বাইকে করে পাকুন্দিয়া যাচ্ছি।হোসেনপুর পৌরসভা সীমানাও পার হতে পারিনি আর পড়ে গেলাম গাড়ি চেকিং পার্টির ভিতরে। তখন আমি জব করিনা, ফুলফিল একজন সিভিল পার্সন আমি। রোডের দুই পাশে পোশাক পরিহিত ও সিভিল সহ প্রায় ১০-১২ জন পুলিশ সদস্য হবে। একজন ইশারা করলো বাইক থামানোর জন্য। বাইক থামাতেই কোমড়ে গুজা পিস্তল সিভিল পোশাকে একজন এগিয়ে আসলো, সম্ভবত এ এস আই পদবীর কেউ হবেন। উনি কাছে আসতেই নিজেকে খুব অপরাধী মনে হতে লাগলো।আর কি বলবো কি জবাব দিবো শুধু ভাবছি কারন আমার কাছে তো বাইক চালানোর কোন ডকুমেন্টসই নেই।

যাই হোক, উনি কাছে আসতেই আমি সালাম দিয়ে বাইক থেকে নামতে গেলাম। উনি সালামের উত্তর নিয়ে বললেন নামতে হবেনা আপনার, কাগজপত্র শো করেন। বাইকের যে লাইসেন্স আমার কাছে নেই তা উনি ঠিকই বুঝতে পেরেছেন। আমি শুধু নম্র হয়ে বললাম স্যরি। এই স্যরি শব্দটা উনার কতটুকু গভীরে পৌঁছাতে পেরেছে, তা আমি পরিমাপ করতে পেরেছি পরে। উনি শুধু বললেন, ভাই কাগজপত্র কিছুই চাইবো না আমি বাইক চালাতে গেলে যে হেলমেট লাগে, সেটা নেই কেন? এত সুন্দর চেহারা ভাই আপনার, আল্লাহ না করুন- সামান্য একটা এক্সিডেন্ট হলে আপনার এই চেহারা থাকবে? তখন ক্ষতি কি আমাদের হবে নাকি আপনার? এত সুন্দর পোশাক পড়তে পারেন অথচ বাইক চালানোর সময় একটা হেলমেট ইউজ করতে পারেন না? দেশের প্রচলিত আইন মেনে না হোক, আপনার নিজের সেফটির জন্যেও তো হেলমেটটা ইউজ করতে পারেন। এরপর থেকে একটু কেয়ারফুল থাকবেন ভাই। বলে বিদায় দিলেন।

আমি উনার ব্যবহারে আনন্দে কেঁদে ফেলবো নাকি কি করবো বুঝতে পারছিলামনা। সারাটা রাস্তা যাচ্ছিলাম আর চিন্তা করছিলাম পুলিশ এত ভাল হয়? রাতে বাসায় শুয়ে শুয়েও সেই একই চিন্তা পুলিশের এত সুন্দর ব্যবহার কি করে হয়?চিনি না, জানি না কোনোদিন পরিচয়ও হয়নি, আমাকেও চিনেনা, জানেনা, কোন পরিচয় নেই অথচ কত সুন্দর ব্যবহার। ইচ্ছে করলেই তো আমার বাইকটা আঁটকে দিতে পারতো, ইচ্ছে করলেই তো আমার চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করতে পারতো কিন্তু কিছুই তো করলোনা। যে উদারতা দেখালো তাতে আমার এই হৃদয়টায় জায়গা করে নিলো।

 

মাত্র তো ৩ টা ঘটনা বললাম, এমন আরও অনেক অনেক আছে। দু একজনের সাথে বাকবিতণ্ডা হয়েছে বলেই কি সবাইকে খারাপ জানবো, সবাইকে খারাপ ভাববো? কক্ষনোই না। আমি তো কোন রাজনৈতিক দলের না,আমি তো কোন ভিআইপি নই, আমার তো বড় কোন পদ পদবী নেই, আমার তো মামা খালুর কোন জোর নেই, আমার তো কোন নেতার সাথে কোন সেলফিও নেই, ওরা তো আমার কোন আত্মীয়স্বজনও না, কোন রক্তের সম্পর্কও নেই তাদের সাথে, কোনদিন এদের কারও সাথে পরিচয়টুকুও ছিলনা তবুও কিভাবে পেলাম এই হেল্প? ওদের মাঝে কি একজনও খারাপ হতে পারলো না?

নিশ্চয়ই ওরা ভালো, আর ভালো বলেই আমি ভালো ব্যবহারটাই পেয়েছি। আর বাকিটা আমার ব্যবহার, আমার ব্যবহার ভালো ছিল বলেই ভালো আচরণ পেয়েছি, ভালোবাসা পেয়েছি। পুলিশকে শুধু শুধু দোষারোপ না করে আগে নিজের বিচার করুন। আমরা নিজের ভুলটা চোখে দেখিনা, ভুল করেও দেখতে চাইনা। দেশের প্রচলিত আইনের ১০০% এর ৩০% ও যদি সঠিকভাবে ওরা প্রয়োগ করে, তাহলে আমাদের জন্য সত্যিই চলা দায় হয়ে যাবে কারন আমরা বাঙ্গালি যে খুব ভাল। একটাবার পুলিশের জায়গায় যদি নিজেকে দাঁড় করানো যেতো, তাহলে বুঝা যেতো কত ক্ষমতা আমাদের।

সারাদিন বাসায় এটা ওটা রান্না করছেন, মজা করে খাচ্ছেন, বিলাসী জীবন যাপন করছেন, শীতের রাতে লেপ কম্বল মুড়ি দিয়ে ঘুমাচ্ছেন, ইফতারির সময় বাহারি ইফতার করছেন। কিন্তু আপনার বাসার অদুরেই মোড়ে যে পুলিশটি দাঁড়িয়ে ডিউটি করছে, তার খোঁজ কি নিয়েছেন ইফতারিটা করেছে কিনা? দুপুরের টাইমে খোঁজ নিয়ে দেখেছেন খাবারটা খেয়েছে কিনা? বৃষ্টি ও রোদের খরা তাপে ডিউটি কিভাবে করছে খোঁজ নিয়েছেন? শীতের রাতে আপনি তো লেপ কম্বল গায়ে দিয়ে নাক ডেকে ঘুমাচ্ছেন কিন্তু সারাটা রাত আপনার আমার নিরাপত্তায় যে পুলিশ ভাইয়েরা রাস্তায় পেট্রোল দিচ্ছে তার কি কোন শীত বা ঘুম নেই? আপনার আমার সংসার আছে তাদের কি নেই? আপনি আমি রক্তে মাংসে মানুষ আর তারা কি ভীনগ্রহের রোবট? মহামারী করোনায় বিপদ সম্মুখ জেনেও ওরা দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে তা পালন করে যাচ্ছে, আপনার আমার সেবা দিয়ে যাচ্ছে তবুও সন্তুষ্ট নই।

হ্যা ওরা চাকরি করে, আর চাকরি করতে যেয়ে এবং তা রক্ষা করতে যেয়ে অনেক কিছুই ইচ্ছের বাইরে করতে হয়, চলতে হয়। এটা আপনি আমি হলেও করতাম। এখন অনেকেই বলবে পুলিশ ঘুষখোর, ওরা ঘুষ খায়, ওরা ঘুষ ছাড়া কিছুই বুঝেনা। আমি তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, এই পুলিশকে ঘুষখোর বলার আগে তাদের দিকে আঙ্গুল তুলুন যারা এদেরকে ঘুষখোর বানিয়েছে। যারা ১০-১২ লক্ষ করে টাকা খেয়ে এক একটা পুলিশ সদস্যে ভর্তি করেছে। যারা এত এত টাকা খেয়ে এদেরকে ঘুষখোর হিসেবে তৈরি করেছে। তো একটা সাধারণ পরিবারের ছেলে জমিজমা বন্ধক রেখে ব্যাংক থেকে লোন উঠিয়ে, মানুষের কাছ থেকে সুদের উপর ঋণ নিয়ে এতগুলো টাকা দিয়ে পুলিশে ভর্তি হয় তবে তার ঘুষ না খেয়ে উপায় কি? একটু গভীরভাবে মাথাটা ঠান্ডা করে চিন্তা করুন কথাটা আসেলেই যুক্তিসঙ্গত কি না।

কোন জায়গায় ধরার কথা আর আমরা কোথায় লাফাচ্ছি। এতকিছুর পরেও বিপদে পরে কিন্তু আমরা আমাদের দরকারে ওদের কাছেই ছুটে যাই। কারণ আমরা জানি আমাদের ভরসা এই পুলিশই।আর হ্যা, এই পুলিশ কিন্তু ভীনগ্রহের কেউ নয়। ওরা আমাদেরই কারো না কারো ভাই, ভাতিজা, সন্তান বন্ধু, আত্মীয়, প্রতিবেশী, শুভাকাঙ্ক্ষী ইত্যাদি। তাই পুলিশকে ঘৃণা নয় ভালবাসুন, সমালোচনা নয় সম্মান দিন, ওদের সাথে মিশুন।একজনের দোষে পুরো পুলিশ বাহিনীকে নয়, বরং ওই ব্যক্তিকে ঘৃণা করুন।
স্যালুট বাংলাদেশ পুলিশ।

লেখক পরিচিতিঃ সাংবাদিক ও কলামিস্ট
এস এম মিজানুর রহমান মামুন
প্রধান নির্বাহী সম্পাদক
দেশেরবার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

বিশ্বে করোনা ভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
৮১৫,২৮২
সুস্থ
৭৫৫,৩০২
মৃত্যু
১২,৯১৩
সূত্র: আইইডিসিআর

বিশ্বে

আক্রান্ত
১৭৫,৩৯৯,৬৬৯
সুস্থ
১১৩,৫৩৬,১৭৫
মৃত্যু
৩,৭৯২,৪৭২

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস

সর্বমোট

আক্রান্ত
৮১৫,২৮২
সুস্থ
৭৫৫,৩০২
মৃত্যু
১২,৯১৩
সূত্র: আইইডিসিআর

সর্বশেষ

আক্রান্ত
২,৩২২
সুস্থ
২,০৬২
মৃত্যু
৪৪
স্পন্সর: একতা হোস্ট

এই ওয়েবসাইটে কোনও তথ্য, চিত্র, অডিও বা ভিডিও অন্য ও কোথাও প্রকাশ করা আইনত দন্ডনীয়।

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © desherbarta24.com 2017-2021

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
jpthemes2281