আলো আঁধারীর খেলা – শরীফুল ইসলাম
পর্ব – দুই.
যেহেতু জাফর যে বাড়ির বাসিন্দা , তার প্রায় সব ঘরেই উঝা-বৈদ্যে ভরা সেই সুত্রে সামাজিক ভাবে জাফরের এই বিমার সারাবার সকল চেষ্টাই করা হয়ে হয়েছে। কিন্তু ফলাফল শূন্য। শেষে বাড়ির সবাই অর্থ অনুদান দিয়ে রামঘর থেকে এক বিজ্ঞ ওঝা আনা হলো সারাবাড়ি ভর্তি মানুষ।
লোকের মুখে একটাই কথা," এইবার আর চিন্তা নেই। যে ওঝা এসেছে তার বহুদিন ধরে এই সব ব্যপারে বেশ নাম ডাক। ওঝা বেটারও খুব ভাব।
এসেই বলছে, " রোগী কে?"
কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে দু'জন বলিষ্ঠ মর্দমানুষ এর সহযোগিতায় জাফরকে আনা হলো উঠোনের মাঝখানে।
ওঝা বড় গলায় বলতে লাগলো, "ভয়ের কিছু নেই। এমন কোনো শয়তান জ্বিন নাই যে আমার কাছ থেকে এই পর্যন্ত রক্ষা পাইছে। তারটাও পাবেনা। "এই কথা বলেই বলল, "একটা কচি দেখে ছোটো কলাগাছ আনো। "
কাপড়ের কাধের ঝোলা বেগ থেকে একটা দা বের করলো। উপস্থিত সবাই চুপ। আতঙ্ক ভরা দৃষ্টিতে সবাই একবার ওঝাকে দেখছে আবার একবার জাফরকে।
কেউ কেউ ফিস ফিস করে বলাবলি করছে, "দা দিয়ে কি করবে! কলাগাছ কাটবে নাকি আবার জাফরকে কুপ বসিয়ে দেয়। "
এই বলাবলির মাঝেই সবাই হঠাৎ চুপ হয়ে গেল। ওঝার ফুসফুস ঘুঙ্গানি শুনে। চোখ বন্ধ। হাতের কনিষ্ঠ আর বৃদ্ধাঙ্গুলি এক করে কি যেন পড়ছে। জাফর তাকিয়ে আছে।
এই ভাবে মিনিট দুই এক চলার পর ওঝা নিজে নিজেই কথা বলছে - "তার কি সমস্যা? "
আবার একটু থামলো আর মাথা নাড়লো। মানে প্রশ্ন করার পর উত্তর শুনেছে আর কী !
তারপর আবার জিজ্ঞেস করলো "কয়জন তারা? " তারপর আবার খানিকক্ষণ চুপ থেকে থেকে পুনরায় জিজ্ঞেস করলো, "সমাধান কী?"
ব্যাস! এই কথা বলতে না বলতেই জাফর পাগলা হঠাৎ করে লাফ দিয়ে উঠোনে আচরে পরলো। তারপর অট্টহাসি দিয়ে ওঝার কাছে এগিয়ে যেতে যেতে ভারী কন্ঠে বলতে লাগলো, "কিরে! জাফরকে চিকিৎসা করবি তুই? তোর মতো মশা? ভালো চাসতো চলে যা।"
কন্ঠ শুনে বুঝাই যাচ্ছে যদিও জাফরের মুখ দিয়ে বেরুচ্ছে কিন্তু এটা জাফরের কন্ঠ না। এদিক দিয়ে ওঝা বেটাও খুব তার সমস্ত আমল উজার করে পড়ছে।
হঠাৎ ওঝা বলতে লাগলো, "শোনো, শোনো জাফরের সাথে শুধু একটা না অনেক অনেকগুলো ছিল, জাফরের সাথে ৫৭ জন জিন ৮ খানা দেও আছিল। তারা সব বিদায় নিছে কিন্তু একজন যায় নাই। এই শঙ্কর। "
এ কথা বলতেই জাফরের কন্ঠে আওয়াজ ভেসে আসলো - "ভুল! তুই ভুল বললি। আমি শঙ্কর না। আমার নাম দরিদ্র লিটন। হিন্দু, বৌদ্ব, খ্রিস্টান, মুসলিম সব ধর্মেই আমার জ্ঞান অঢেল। তুই যেই মন্ত্র দিয়ে আমায় আক্রমণ করবি , আমি তোর সেই মন্ত্র দিয়ে তা ফিরিয়ে দিব। এখনও সময় আছে চলে যা। না হয় আমার হাত থেকে তোর নিস্তার নাই।"
বলেই জাফর এর চিৎকার- ও মাগো, বাছাওগো, আমারে মাইরা ফালাইলো। ও মা। ও মা।