
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
শরিয়তের পরিভাষায় উমরা বলা হয় আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে শরীয়ত-প্রদত্ত নিয়ম অনুসারে মক্কা মুকাররমায় উপস্থিত হয়ে বিশেষ কিছু কাজ করাকে উমরা কাকে বলে।
উমরার ফযীলতঃ
১. হযরত আবু হুরাইরা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, এক উমরার পর আরেক উমরা করলে মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ মাফ হয়ে যায়। সহীহ বুখারী, হাদীস ১৭৭৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৩৪৯
২. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, তোমরা একাধারে হজ্ব ও উমরা করতে থাকো। কেননা হজ্ব-উমরা পাপ ও দারিদ্রতাকে এমনভাবে মিটিয়ে দেয়, যেমন কামারের হাপর লোহার ময়লা দূর করে দেয়। সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৮১০, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং: ২৮৮৭
৩. হযরত বারা ইবনে আযিব রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূল ﷺ বলেন, রমাযানে একটি উমরা আদায় (সওয়াবের বিবেচনায়) হজ্বের সমতুল্য। সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ১৭৮২; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ১২৫৬-১
অপর এক বর্ণনায় আছে, রমাযানে উমরা আদায় আমার সাথে হজ্ব করার সমতুল্য। আবু দাউদ ১৯৯০, মুসতাদরাকে হাকেম ১৭৭৯
৪. হযরত জাবির রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, হজ্ব ও উমরা আদায়কারীগণ আল্লাহর প্রতিনিধি। তিনি তাদেরকে ডেকেছেন এবং তারা তাঁর ডাকে সাড়া দিয়েছেন। তারা আল্লাহর কাছে চেয়েছেন আর তিনি তাদেরকে দান করেছেন। মুসনাদে বাযযার (কাশফুল আসতার) ১১৫৩
উমরার ফরয ২ টিঃ
১. বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করা।
২. সাফা-মারওয়া সায়ী করা।
উমরার ওয়াজিব ২টিঃ
১. ইহরাম বাঁধা।
২. মাথা মুণ্ডানো বা ছেঁটে ছোট করা।
উমরাতে চারটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে হয়ঃ
১. মীকাত থেকে ইহরাম বাঁধা।
২. বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করা।
৩. সাফা-মারওয়া সায়ী করা।
৪. চুল মুণ্ডানো বা ছাঁটা।
তাওয়াফ করার পদ্ধতিঃ
শরীয়তের ভাষায়, বাইতুল্লার চতুর্দিকে সাত বার ঘুরাকে তাওয়াফ বলে। তাওয়াফের জন্য নিয়ত করা ফরয। নিয়ত ব্যতীত যতই ঘুরা হবে তাওয়াফ আদায় হবে না। তাওয়াফের নিয়ত এভাবে করবে যে, হে আল্লাহ আমি তোমার সন্তুষ্টির জন্য তাওয়াফের ইচ্ছা করছি তা আমার জন্য সহজ করে দাও এবং কবুল কর। অন্তরে এই নিয়ত করা ফরয এবং মুখে উচ্চারণ করাও উত্তম। এ নিয়তের সাথে সাথে বাইতুল্লাহ্ শরীফের সামনে যেখানে হাজরে আসওয়াদ রয়েছে সেখানে এভাবে দাঁড়াবে যে, হাজরে আসওয়াদ যেন ডান দিকে থাকে। এরপর তাওয়াফের নিয়ত করে এমনিভাবে একটু ডান দিকে যাবে যেন হাজরে আসওয়াদ সম্পূর্ণ সামনে থাকে। হাজরে আসওয়াদের সামনে দাঁড়িয়ে এভাবে হাত উঠাবে যেমনি নামাযে তাকবীর তাহরীমার সময় উঠাতে হয় এবং এভাবে তাকবীর বলবে-
بِسْمِ اللهِ اَللهُ أَكْبَرُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَلِلّٰهِ الْحَمْدُ ، وَالصَّلٰوةُ وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُولِ الله - اَللّٰهُمَّ إِيمَانًا بِكَ، وَتَصْدِيقًا بِكِتَابِكَ، وَوَفَاءً بِعَهْدِكَ، وَاتِّبَاعًا لِسُنَّةِ نَبِيِّكَ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
যদি সম্পূর্ণ স্মরণ না থাকে অথবা ভীড়ের কারণে অসুবিধা হয় তাহলে শুধু 'বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার ওয়ালিল্লাহিল হামদ্' পাঠ করলেই চলবে। এরপর হাত ছেড়ে হাজরে আসওয়াদকে এভাবে চুমা দেবে যে, উভয় হাত হাজরে আসওয়াদের উপর এভাবে রাখবে যেমনি সিজদার মধ্যে রাখা হয় এবং হাজরে আসওয়াদকে আদবের সাথে চুমা দেবে।
মুলতাযামঃ
তাওয়াফের নামাযের পর দু‘আ শেষে সক্ষম হলে মুলতাযামে আসবে। যা হাজরে আসওয়াদ ও কাবার দরজার মাঝের স্থান। এটি দু‘আ কবুলের একটি স্থান। এখানে এসেও দু‘আ করবে। এ দু‘আ করা সুন্নত। কিন্তু যদি ভীড় বেশি হয়, তাহলে মুলতাযামে না আসলে ক্ষতি নেই।
আবে যমযমঃ
তারপর আবে যমযমের কাছে আসবে। কিবলামুখী হয়ে বিসমিল্লাহ বলে তিন শ্বাসে যমযমের পানি পান করবে। তারপর আলহামদুলিল্লাহ বলে এ দু‘আ পড়বে-
اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا، وَرِزْقًا وَاسِعًا، وَشِفَاءً مِنْ كُلِّ دَاءٍ
যমযমের পানি পান করে হাজরে আসওয়াদের সামনে আসবে। সক্ষম হলে হাজরে আসওয়াদ চুমু খাবে। সক্ষম না হলে হাত দিয়ে ইশারা করে চুমু খেয়ে সাফা পাহাড়ের দিকে রওয়ানা হবে।
সাফা-মারওয়া সায়ীঃ
সাফা পাহাড়ের দিকে যাবে এবং তাতে আরোহন করবে। আর বাইতুল্লাহর দিকে মুখ করে আল্লাহু আকবার ও লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু বলবে। এরপর মারওয়ার দিকে আস্তে আস্তে আসবে এবং স্বাভাবিকভাবে চলবে। আর বাতনুল ওয়াদীতে সবুজ বাতির এলাকায় আসার পর সাধারণভাবে দৌঁড়াবে। অতঃপর সাফায় যা যা আমল করা হয়েছে, মারওয়াতেও তা করবে। এ হলো ১ চক্কর। এভাবে ৭ চক্কর দিবে। সাফা থেকে শুরু করবে, মারওয়ায় গিয়ে শেষ করবে। আর প্রতি চক্করে বাতনুল ওয়াদীতে দৌঁড়াবে।
والله اعلم بالصواب
শফিকুল ইসলাম হাটহাজারী
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিআ মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়া, মোহাম্মদপুর ঢাকা।
সম্পাদক: শামীম আহমেদ, নির্বাহী সম্পাদক: এস এম মিজানুর রহমান মামুন, প্রকাশক: রাজন আকন্দ
© ২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দেশেরবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম