(বাসস): জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে তার নির্বাচনি এলাকার ব্রাহ্মণ পুরোহিত সম্প্রদায়ের ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করেছেন। আজ বুধবার সংসদ ভবনে তার কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে ডেপুটি স্পিকার ব্রাহ্মণ পুরোহিত সম্প্রদায়ের খোঁজখবর নেন এবং তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
তিনি জানান, তার নির্বাচনি এলাকায় বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান রয়েছে। এলাকার সব শ্রেণি-পেশার মানুষ যাতে জাতীয় সংসদ সম্পর্কে প্রত্যক্ষ ধারণা অর্জন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে সবাইকে সংসদ ভবন পরিদর্শন এবং সংসদ অধিবেশন পর্যবেক্ষণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, আজ ব্রাহ্মণ পুরোহিত প্রতিনিধিদল এসেছেন। এর আগে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদল, ইমাম প্রতিনিধিদল, হাজং সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদল এবং দুর্গাপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এসেছিলেন। আমার লক্ষ্য হলোÑ এলাকার সব পেশা ও সম্প্রদায়ের মানুষ যেন সংসদ সম্পর্কে জানতে পারে।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, আমাদের সবার পরিচয় আমরা মানুষ। আমাদের সবার রক্তই লাল। মুসলমান, হিন্দু, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ- সবাই আমরা বাংলাদেশি। তিনি বলেন, অতীতে রাষ্ট্রীয় সেবা অনেক সময় দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হয়েছে। তিনি সব ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে দলমত ও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন।
প্রতিনিধিদলে ছিলেন ব্রাহ্মণ পুরোহিত সম্প্রদায়ের বীরেশ্বর চক্রবর্তী, মিন্টু ভাদুরী, অপরেশ চক্রবর্তী, গৌতম চক্রবর্তী, বিমল চৌধুরী, উৎপল শর্মা, রতন শর্মা, সুজয় শর্মা, মানিক চক্রবর্তী, কেশব লাল চক্রবর্তী, সজয় চক্রবর্তী ও সমরেশ চক্রবর্তী। সংসদ ভবনে আসার সুযোগ করে দেওয়ায় এবং দুর্গাপুরের সন্তান হিসেবে ডেপুটি স্পিকার নিযুক্ত হওয়ায় তারা ব্যারিস্টার কায়সার কামালের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তারা বলেন, হিন্দু সম্প্রদায় হিসেবে তারা অনেক সময় অবহেলার শিকার হন। তবে ডেপুটি স্পিকারের সহযোগিতায় দুর্গাপুরের উন্নয়নে অংশগ্রহণ করে তারা দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চান। তারা ডেপুটি স্পিকারকে ‘রাজা’ সম্বোধন করে গীতা পাঠ করেন এবং ঈশ্বরের কাছে তার মঙ্গল কামনা করেন। পাশাপাশি তাকে একটি উত্তরীয় উপহার দেন এবং পূজামণ্ডপ সংস্কার, পুরোহিত ভাতা চালু ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান।
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল আশ্বাস দিয়ে বলেন, এলাকার মন্দিরগুলোর জন্য বরাদ্দ প্রদানে কোনো অবহেলা করা হবে না। ব্রাহ্মণ পুরোহিত সম্প্রদায়ের কল্যাণে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করা হবে। মসজিদ, মন্দির ও গির্জার জন্য বরাদ্দের তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করা হবে। তিনি আরও বলেন, যুব সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে শিক্ষা, খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চা জোরদার করতে হবে।
সম্পাদক: শামীম আহমেদ, নির্বাহী সম্পাদক: এস এম মিজানুর রহমান মামুন, প্রকাশক: রাজন আকন্দ
© ২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দেশেরবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম