সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি-সংবাদ লেখার কলাকৌশল

সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা । এ পেশার প্রতি দুর্বলতা রয়েছে অধিকাংশ সচেতন মানুষের । সাংবাদিকতা পেশায় যেমন রয়েছে ঝুঁকি, তেমন রয়েছে সম্মান ও রোমাঞ্চ। অপ-সাংবাদিকতা বাদ দিলে যে টুকু থাকে তার সব টুকুই আত্মতৃপ্তি পাওয়ার জন্য একটি স্বাধীন পেশা সাংবাদিকতা । আর এই কারনেই সংবাদপত্রকে সমাজের দর্পণ আর সাংবাদিকদের জাতির বিবেক বলে আখ্যায়িত করা হয় । এ ছাড়া সংবাদ পত্র রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবেও স্বীকৃত।একজন সৎ নির্ভিক ও নিরপেক্ষ সাংবাদিক সমাজের কাছে যেমন সমাদৃত তেমন দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী, চোরাচালানী, মাদকদ্রব্য ব্যবসায়ী ও সমাজ বিরোধীদের কাছে আতংক । প্রয়াত কাঙ্গাল হরিনাথ, এ কালের নিউজ এজ এর সম্পাদক শ্রদ্ধেয় নুরুল কবীর, মোনাজাত উদ্দীন, শামছুর রহমান কেবলসহ অনেককেই উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করা যায়।
সাংবাদিক হওয়ার জন্য শিক্ষার কোন উল্লেখযোগ্য মাপকাঠি না থাকলেও ভাষা ও বানান সম্পর্কে সতর্ক জ্ঞান থাকা আবশ্যাক । এ ছাড়া যিনি, সাংবাদিকতার মত ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় নিয়োজিত হতে চান তার থাকতে হবে মানসিক ও শারীরিক যোগ্যতা। একজন সাংবাদিককে হতে হবে মেধাবী, স্মার্ট ও চটপটে। থাকতে হবে যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলা করার মত ধর্য্য, সাহস ও মানসিকতা। ভদ্রোচিত ব্যবহার সাংবাদিকের একটি বিশেষ গুণ।সাংবাদিককে নিরপেক্ষ হওয়া বাধ্যতামুলক। এ ছাড়া সাংবাদ সরবরাহকারীদের (সোর্স ) কাছে হতে হবে একজন প্রকৃত বন্ধুর মত বিশ্বস্ত। কোন পরিস্থিতিতেই সংবাদের সোর্সের নাম প্রকাশ করা যাবে না। পরিচ্ছন্ন ও মার্জিত পোষাকও একজন সাংবাদিকের গ্রহণযোগ্য করে তোলে।
সংবাদ সংগ্রহের জন্য রয়েছে অনেক উৎস তা হলো:
পুলিশ স্টেশন থানা/ ডিবি /ডিএসবি/ সিআইডি ,হাসপাতাল, ক্লিনিক, মেডিকেল কলেজ, ফায়ার ব্রিগেড ,বিমান বন্দর , নদী বন্দর, রেলওয়ে স্টেশন , কাস্টমস অফিস , মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অফিসসহ সরকারী ও বে-সরকারী সকল প্রতিষ্ঠান, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী , প্রেসনোট, প্রেস রিলিজ , হ্যান্ড আউট , সামাজিক সংগঠন , জেলা প্রশাসন , উপজেলা প্রশাসন , ইউনিয়ন পরিষদ , বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,স্থল বন্দর, এনজিওসহ সমাজের ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তি হতে পারে সংবাদের সোর্স ও উৎস ।
সংবাদ সংগ্রহের জন্য একজন সাংবাদিকের থাকতে হবে Nose for News অর্থাৎ সংবাদের গন্ধ শুকার মত একটা নাক বা সহজাত প্রবৃত্তি। এর সাথে থাকতে হবে নোটবুক, ক্যামেরা, ভিডিও ক্যামেরা, মিনিক্যাসেট, ফোন, মোবাইল, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, ই-মেইল, বাইসাইকেল কিংবা মটর সাইকেল ।একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার বার্তা সম্পাদকের কাছে শুনেছি, একজন পেশাদার সাংবাদিকের কাছে আর কিছু থাক আর না থাকুক অন্ততঃ একটি কলম থাকা বাধ্যতামুলক। কলম থাকলে জরুরী কোন সংবাদের তথ্য বাম হাতের তালুতেও লিখে রাখা যায়।
আমাদের চারপাশে আমরা যা প্রত্যক্ষ করি তার অধিকংশই সংবাদের বিষয় হতে পারে। এরপরও নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের উপর সংবাদ লিখলে তা হতে পারে পাঠকের কাছে বিশেষ গ্রহনযোগ্য । যেমনঃ খুন, ধর্ষন, দুর্নীতি, নারী নির্যাতন, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, দূর্ঘটনা , অপহরণ, মাদক ব্যবসা, চোরাচালান, সন্ত্রাস, অগ্নিকান্ড, যৌতুক, আইন-শৃংখলা, সমস্যা ও সংকট, পরিবহন, রাস্তা , কালভার্ট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, রোগ-ব্যাধি, চিকিৎসা, আদালত সংক্রান্ত, ব্যাংক-বীমা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, নদ-নদী, কৃষি, মৎস্য ও গবাদী পশু, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, বিদুৎ, রাজনৈতিক ইত্যাদি বিষয়ের উপর সংবাদ লেখা যেতে পারে। এছাড়া ব্যক্তিগত, সামাজিক নানাবিধ সমস্যা ও তার উত্তরণের উপর সংবাদ লেখা যেতে পারে। সংবাদ সংগ্রহের জন্য অনেক আগে থেকেই সাংবাদিকরা একটি সহজ পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকেন । এ পদ্ধতিকে ইংরেজিতে বলা হয় ‘‘ফাইভ ডাব্লুউ ওয়ান এইচ ’’ ফর্মুলা। বাংলায় বলা হয় ‘‘ষড় ক’’ ফর্মুলা ।
যেমনঃ (১) কে (২) কবে (৩) কখন (৪) কোথায় (৫) কীভাবে (৬) কেন।
উদাহরণস্বরূপ বলা যায়ঃ র্সোস জানালেন, এক ব্যক্তি খুন হয়েছে। ‘‘ষড় ক’’ ফর্মুলায় একজন সাংবাদিক সোর্সের কাছে প্রশ্ন করবেন এইভাবেঃ (ক) কে খুন হয়েছে (খ) কবে খুন হয়েছে (গ) কখন খুন হয়েছে (ঘ) কোথায় খুন হয়েছে (ঙ) কিভাবে খুন হলো (চ) কে বা কারা খুন করলো। প্রশ্নগুলোর উত্তর সঠিক নিয়মে সাবলীল ভাষায় লিখলেই সংবাদ হয়ে যাবে।
তিনিই হবেন একজন জনপ্রিয় সাংবাদিক, যার রয়েছে সর্বস্তরে সোর্স। তবে সোর্স নিয়োগের ক্ষেত্রে অবলম্বন করতে হবে বিশেষ সতকর্তা। সোর্স নিয়োগের পূর্বে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তার জ্ঞান কতটুকু এবং তিনি ঐ সংবাদের ব্যাপারে কতোটা নিরপেক্ষ, তা যাচাই করে নিতে হবে। নইলে ভুল তথ্যের জন্য আপনার কষ্ট করে লেখা সংবাদটি গ্রহনযোগ্যতা হারাতে পারে। আবার আপনার সম্পর্কে মানুষের মাঝে জন্মাতে পারে ভ্রান্ত ধারণা।
সংবাদ বা রিপোর্ট অর্থ প্রতিবেদন। চাহিদামত তথ্য বা রেকর্ডকে সুবিন্যস্ত করে তুলে ধরাই হলো রিপোর্ট (Report)।
সংবাদ প্রতিবেদন লেখার নিয়ম সম্পর্কে আমরা অনেকে প্রায়ই দ্বিধায় পড়ে যাই। অনেকেই প্রতিবেদন লেখার ধাঁচটা ঠিক বুঝে উঠতে পারেন না। আজ আমরা এ বিষয়েই কথা বলবো। কিভাবে সংবাদ প্রতিবেদন লেখা উচিত, কোন ধরনের তথ্য কোথায় ব্যবহার করা উচিত, ধাঁচটাই বা কী হবে- ইত্যাদি তথ্য আজ আমরা আপনাদের জানাবো।
ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে প্রতিবেদন অনেক ধরনের হয়ে থাকে। যেমন- প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবেদন, তদন্ত প্রতিবেদন, তথ্যভিত্তিক বা অ্যানালিটিক্যাল প্রতিবেদন, সংবাদ প্রতিবেদন ইত্যাদি। এগুলোর মধ্যে সংবাদ প্রতিবেদন আমাদের প্রায় সারা জীবনই কাজে লাগে।শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাংবাদিক, এমনকি শিক্ষক কিংবা বিভিন্ন অফিসের পদস্থ কর্মকর্তাদেরকে প্রায়শই এ ধরনের প্রতিবেদন লিখতে হয়। এ কারণেই সংবাদ প্রতিবেদনকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের সিলেবাসে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।
বাহ্যিক নিয়মঃ
- শিরোনামঃ সংবাদ প্রতিবেদন লেখার সময় শুরুতেই ১ টি আকর্ষণীয় শিরোনাম দিতে হয়। আকর্ষণীয় শিরোনাম দেয়ার নিয়ম নিয়ে বলতে গেলে আসলে বিশাল একটা লেকচার হয়ে যাবে। তাছাড়া এ নিয়ে বেশি গভীরে গেলে সেটা জার্নালিজম বিষয়ের হায়ার স্টাডি হয়ে যাবে। তাই বেশি ব্যাখ্যা না করেই বলার চেষ্টা করবো।
- আকর্ষণীয় শিরোনামের মাধ্যমে মূলত মানুষকে প্রতিবেদনটি পড়ার জন্য আকৃষ্ট করা হয়। মানুষ শিরোনাম দেখে আগ্রহী হলে, তবেই পুরো প্রতিবেদনটি পড়ে। একইভাবে, আকর্ষণীয় শিরোনাম দিতে পারলে শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। অর্থাৎ শিরোনাম কী দেয়া হবে- সেটা নিয়ে একটু চিন্তা করতে হবে।
- আমাদের দেশে শিরোনামকে আকর্ষণীয় করতে গিয়ে বিভিন্ন অনৈতিক পন্থা ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে ইউটিউবিং বা ব্লগিং এর ক্ষেত্রে এ ধরনের মিসলিডিং টাইটেল বেশি ব্যবহৃত হয়। এসব অতিরঞ্জিত বা অতি চটকদার শিরোনাম মানুষকে বিরক্ত করে তোলে। তাই অতিরঞ্জন না করেই, শিরোনামকে আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে।
আমি ৩ টি উদাহরণ দিচ্ছি- ১। সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ শিক্ষার্থীর মৃত্যু ২। সড়ক দুর্ঘটনায় শেষ হয়ে গেলো ৩ শিক্ষার্থীর জীবন ৩। দেখুন, কিভাবে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা পড়লো ৩ শিক্ষার্থী
এখানে আমি একই কথাকেই তিন রকম ভাবে লিখেছি। প্রথম শিরোনামটি অতি সাধারণ, যেটা হয়তো বেশিরভাগ মানুষই ব্যবহার করবে। দ্বিতীয় শিরোনামটি একটু আকর্ষণীয়, যেটা একই বিষয়কে উপস্থাপন করছে। কিন্তু ২য় শিরোনামটির কারণে মানুষ কিছুটা আকৃষ্ট হবে। কিন্তু ৩য় শিরোনামটি খেয়াল করলে দেখা যাবে- এটা অতিরঞ্জিত। এ ধরনের শিরোনাম দেখেই মানুষ প্রতিবেদনটি পড়তে আগ্রহী হবে। কিন্তু প্রতিবেদন পড়া শেষে নিরাশ হতে হবে। কারণ শিরেনামে যতটা অতিরঞ্জিত করা হয়েছে, প্রতিবেদনের ভেতরের ততটা মশলা নেই। এককথায় শিরোনাম হতে হবে আকর্ষণীয়, ভেতরের কথার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং বাস্তব। শিরোনামের উপরই পাঠকের আগ্রহ অনেকাংশে নির্ভর করে।
যদি সামাজিক কোনো বিষয় নিয়ে প্রতিবেদন লেখা হয়, সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়ের বিবরণ, কারণ, ফলাফল, প্রস্তাবনা ইত্যাদি উল্লেখ করতে হয়। সামাজির সমস্যার ক্ষেত্রে প্রতিরোধ ও প্রতিকার এবং সামাজিক উন্নতির ক্ষেত্রে উৎসাহমূলক বাক্য যোগ করা যেতে পারে। একটা সংবাদ প্রতিবেদনে কী কী তথ্য যুক্ত করতে হবে, কী কী যুক্ত করা যাবে না? এর উত্তর পেতে হলে আপনাকে পাঠকের দৃষ্টিভঙ্গিতে ভাবতে হবে। যে বিষয়ে প্রতিবেদন লিখবেন, সে বিষয়ে আপনি যদি পাঠক হতেন, তবে কী কী তথ্য জানতে চাইতেন? এভাবে পাঠকের দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখলেই আপনি সহজে বুঝতে পারবেন- কী লিখবেন আর কী লিখবেন না।
প্রতিবেদনের প্রথম প্যারাতে সাধারণত ঘটনার খুবই সংক্ষিপ্ত বিবরণ, সময় ও স্থান উল্লেখ থাকে। ২য় প্যারাতে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দেয়া যেতে পারে। তৃতীয় প্যারাতে ঘটনার কারণ দেয়া যেতে পারে। ৪র্থ প্যারায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের বক্তব্য কিংবা ঘটনার ফলাফল কিংবা ইভেন্টের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত দেয়া যেতে পারে। সবশেষে ঘটনার উপর প্রস্তাবনা দেয়া যেতে পারে। কেন এ ধরনের ঘটনা হওয়া উচিত, কিংবা কেন উচিত নয়, কিংবা কিভাবে বৃদ্ধি বা প্রতিরোধ করা যায়, ইত্যাদি প্রস্তাবনার মধ্যে যুক্ত করা যেতে পারে।
আধুনিক ইলেকট্রনিক্স যুগে সংবাদপত্রের পুরাতন ধ্যান ধারণা অনেকটা পাল্টিয়েছে। সংবাদ লেখার অনেকটা নিয়ম কানুনেরও ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। তবে সংবাদ লেখার প্রথমেই ঠিক করে নিতে হবে ‘‘সংবাদ শিরোনাম ’’ সংক্ষিপ্তাকারে চমকপ্রদ বাক্যে লিখতে হবে শিরোনাম। যাতে পাঠকের সংবাদ পড়ার আগ্রহ সৃষ্টি হয়। এরপর লিখতে হবে ‘‘সূচনা সংবাদ’’। ইংরেজিতে যাকে ‘‘ইনট্রো’’ বলে। সূচনা সংবাদ হলো পুরো সংবাদের সংক্ষিপ্ত সার। আর এটি সর্বোচ্চ ৩৬ শব্দের মধ্যে হতে হবে। সূচনা সংবাদ পড়েই পাঠক বুঝতে পারবে সংবাদের পুরো বিষয় বস্তু। সংবাদ লেখার শব্দ ও বাক্য হতে হবে সহজ সরল ও বোধগম্য । ছোটো ছোটো বাক্যে সাবলীল ভাষায় লেখা হলে পাঠকরা পড়ে স্বস্তি পাবে।
তবে সংবাদটি অবশ্যই তথ্য নির্ভর হতে হবে। অনুমান কিংবা আবেগের কোন স্থান নেই এখানে। সংবাদের মধ্যে যিনি যত বেশী তথ্য সংযোজন করতে পারবেন তার সংবাদটি পাঠকের কাছে ততোবেশী গ্রহণযোগ্য হবে। বলা যাবে না আজ কোন সংবাদ নেই : খুন-খারাবী, ধর্ষণ, ত্রাস, নারী নির্যাতন, বোমা হামলা, আত্নহত্যা, অপহরণ, সংঘাত সংঘর্ষ, দূর্ঘটনা, চূরি-ডাকাতি, ছিনতাই, গ্রেফতার, অগ্নিকান্ড, বা কোন ঘটনা না ঘটলে সেদিন আমরা বলে থাকি – আজ কোন সংবাদ নেই। একজন পেশাদার সাংবাদিকের জন্য এই কথাটি বড় লজ্জাষ্কর। আমি প্রখ্যাত সাংবাদিকদের কাছে শুনেছি, যিনি পেশাদার সাংবাদিক তিনি ভুলেও বলতে পারবেন না আজ কোন সংবাদ নেই। প্রতিদিন ঘটে যাওয়া ঘটনাই শুধু সংবাদ নয়। ‘‘পৌরসভার ড্রেন পরিস্কার না করার কারনে মশার উপদ্রব বেড়ে গেছে, নাগরিকরা অতিষ্ঠ’’ কিম্বা “বেঞ্চের অভাবে মাটিতে বসে ছাত্র/ছাত্রীরা লেখা-পড়া করছে” ভাবুন তো এটা কি কম গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ?
ক্রাইম রিপোর্ট সংবাদ পত্রের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ক্রাইম রিপোর্ট একজন সাংবাদিককে রাতারাতি জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে যেতে পারে। আবার ভুল তথ্যের কারণে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক বিড়ম্বনার শিকার হতে পারেন। তাই ক্রাইম রিপোর্ট লেখার আগে সাংবাদিককে চরম সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এক্ষেত্রে সর্ব প্রথম যা করতে হবে,তা হলো, যার বা যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে যে তথ্য আছে তা গোপনে সংগ্রহ করতে হবে। সম্ভব হলে সকল ডক্যুমেন্ট, (ছবি, পেপার, ভিডিও) নিজ আয়ত্বে আনতে হবে। তথ্য সংগ্রহ করা শেষ হলে যার বিরুদ্ধে অভিযোগ তার বক্তব্য অব্যশই গ্রহন করতে হবে। (বক্তব্য রেকর্ড করতে পারলে ভালো হয়) কোন কথা বলতে না চাইলে সে কথাও নিউজের মধ্যে উল্লেখ করতে হবে। সাংবাদিকের নিজের কোন কথা সংবাদের মধ্যে সংযোজন না করাই উত্তম। ডক্যুমেন্ট ও সূত্রের কাঁধে ভর করে সংবাদ লিখতে হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য সংবাদের মধ্যে গুরুত্ব সহকারে লিখতে হবে। প্রতিবেদকের কাছে যদি তার বক্তব্য খন্ডন করার মত উপযুক্ত প্রমাণ থাকে তাহলে‘‘ প্রতিবেদকের ভাষ্য’’ হিসেবে তা সংবাদের মধ্যে উপস্থাপন করা বাঞ্চনীয়।
সংবাদ লেখার পর কমপক্ষে একবার সংবাদটি ভাল করে পড়তে হবে। বানান ভুল হলে, তথ্য বাদ পড়লে বা বাক্য অসম্পুর্ণ থাকলে তা সংশোধন করে পত্রিকায় পাঠাতে হবে। প্রেরিত সংবাদের ফটোকপি অথবা ই-মেইল অবশ্যই সংরক্ষণ করতে হবে। সংবাদটি প্রকাশ হওয়ার পর তা মিলিয়ে দেখতে হবে লেখা সংবাদটি হুবহু ছাপা হয়েছে নাকি এডিট করা হয়েছে । যদি এডিট করা হয়ে থাকে তবে পরবর্তীতে সংবাদ লেখার সময় ক্রটিগুলো সংশোধন করা সুবিধা হবে।
বস্তুনিষ্ঠ সংবাদই একজন সাংবাদিককে সমাজের কাছে গ্রহণয্যেগ্য করে তুলতে পারে। এ ক্ষেত্রে নৈতিকতার বিষয়টি অগ্রগন্য। এছাড়া ভালো রিপোর্টার বা ভালো সাংবাদিক হতে হলে নিয়মিত সংবাদ বিষয়ক বই ও পত্রিকা পড়তে হবে । যে সংবাদগুলো তথ্য হিসেবে ভবিষ্যতে কাজে লাগতে পারে তা সংরক্ষণ করতে হবে। প্রতিদিনের ঘটনা ডায়েরিতে লিপিবদ্ধ করতে হবে। সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতার বিষয়ে বই পত্র সংগ্রহ করে তা নিয়মিত অনুশীলন করতে হবে। সাংবাদিকতার বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিতে হবে। প্রতিষ্ঠিত সাংবাদিকদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করতে হবে এবং তাদের লেখা সংবাদ অনুসরণ করতে হবে।
জেমস আব্দুর রহিম রানা । সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক নাগরিক ভাবনা, ঢাকা ও চীফ রিপোর্টার-সাপ্তাহিক পল্লী কথা, যশোর। মোবাইল: ০১৩০০৮৩২৮৬৮।
