সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩:২২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
গাইবান্ধায় সরকারি হাসপাতালের লোকবল দিয়ে চলছে বৈধ-অবৈধ ক্লিনিক নাগরপুরে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের দক্ষতা ও সচেতনতা শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত বাঁধ ভেঙে গোবিন্দগঞ্জের ২০টি গ্রাম আকস্মিক বন্যায় নতুন করে প্লাবিত পুলিশী নির্যাতন হতে মুক্তি চায় পলাশবাড়ী রিক্সা শ্রমিকেরা পলাশবাড়ী অটোজ এর উদ্বোধন নাগেশ্বরীতে ভিজিএফ’র চাল বিতরণে অনিয়ম কুড়িগ্রামে ২৪টি  স্থানে নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধে ডাম্পিংয়ের কাজ অব্যাহত ভুরুঙ্গামারীতে বিএনপি নেতার হামলার ভয়ে বাড়ি ছাড়া দুই পরিবার জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষ্যে নবাবগঞ্জে মৎস্য পোনা অবমুক্তি করলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফুলছড়ির বন্যা দুর্গত ১শ’ টি পরিবারের জন্য সেনাবাহিনীর মানবিক ত্রাণ সহায়তা

হঠাৎ বিত্তশালী আ.লীগ নেতাদের তালিকা প্রধানমন্ত্রীর হাতে

রিপোটারের নাম
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২০
  • ৭৭ বার সংবাদটি ওয়েব থেকে শেয়ার

শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ টানা তৃতীয়বার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়। এতে করে দলটির অনেক নেতা হঠাৎ করেই অনেক সম্পদের মালিক বনে গেছেন। অথচ তাদের আয়ের বৈধ উৎস বলতে তেমন কিছু নেই। রাজধানীসহ সারাদেশের এমন নেতাদের বিবরণসংবলিত একটি গোপন প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে দেয়া হয়েছে।

এই প্রতিবেদন দেখে শেখ হাসিনা বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘একটা মানুষের বেঁচে থাকতে কত টাকা লাগে? এরা কি টাকা কবরে নিয়ে যাবে? কেন তারা এসব করে?’ অবৈধ অর্থবিত্তশালীদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সরকার ও আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে এমন খবর প্রকাশ করেছে ইত্তেফাক।

এই তালিকায় কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা, মন্ত্রিসভার কয়েক জন সদস্যসহ জেলা, উপজেলা, থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাদেরও নাম রয়েছে। অবৈধ অর্থ-বিত্ত-প্রতিপত্তি, বিলাসী জীবনযাপন আর অনৈতিক কর্মকাণ্ডে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর যেসব নেতাকর্মী জড়িত রয়েছেন তাদেরকে নজরদারির মধ্যেও রাখা হয়েছে। আওয়ামী লীগে থেকে যারা ফায়দা লুটছে তাদের ব্যাংক একাউন্ট খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এমনকি তাদের গ্রামের বাড়িতেও খোঁজ-খবর নিতে শুরু করেছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা।

সরকারের নীতিনির্ধারণ পর্যায়ের এক নেতা জানান, অবৈধ সম্পদ অর্জনকারীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সরকার ও দলীয় নেতৃত্বে ভারসাম্য আনার অংশ হিসেবে সারাদেশের উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদ পাবেন না এমপিরা। তৃণমূলে পাঠানো বার্তায় এমপিদের উপজেলা পর্যায়ের কমিটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, যারা এমপি হতে পারেননি, তারা যেন নেতা হওয়ার সুযোগ পান। তবে জেলা পর্যায়ে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক হতে পারবেন এমপিরা। কারণ কেন্দ্রের সঙ্গে তাদের সমন্বয় করতে হয়।

তিনি আরো জানান, সম্প্রতি ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে না রাখার নির্দেশ দিয়েছেন দলটির সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। হাইকমান্ডের নির্দেশনা মতে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের দুই অংশের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে স্থান পাচ্ছেন না দলীয় কাউন্সিলররা। থানা ও ওয়ার্ড কমিটিতে স্থান পাওয়ার সুযোগ থাকলেও শীর্ষ নেতা হতে পারবেন না তারা।

প্রসঙ্গত, সরকার থেকে দলকে যতটুকু সম্ভব আলাদা করার অংশ হিসেবে গত ২০-২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় পদ থেকে তিন মন্ত্রী, চার প্রতিমন্ত্রী ও দুই উপমন্ত্রী বাদ দেয়া হয়।

সূত্র জানায়, তালিকায় নাম থাকা হঠাৎ বিত্তশালীদের বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্ত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেয়া প্রতিবেদন দেখা গেছে, সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে এ তালিকা তৈরি করা হয়েছে। শুধু তৃণমূল কিংবা সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরাই নন, কেন্দ্রীয় কয়েক জন নেতার বিরুদ্ধেও বিপুল সম্পদ ও অর্থবিত্তের মালিক হওয়ার তথ্য এখন আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কাছে রয়েছে। কেন্দ্রীয় একজন নেতা, যিনি ঋণখেলাপিও বটে। তার বিপুল পরিমাণ সম্পদের খবর পাওয়া গেছে। অথচ তিনি রাজনীতি ছাড়া অন্য কিছু করেন না।

আওয়ামী লীগের আরেক কেন্দ্রীয় নেতার কোনো বৈধ আয় নেই। কিন্তু তিনি বিলাসবহুল অফিস পরিচালনা করেন। তার সম্পদ প্রতিদিন জ্যামিতিক হারে বাড়েছে। কিন্তু ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার আগে ওই নেতা যেমন আলোচনায় ছিলেন না, তেমনি তার সম্পদও কিছু ছিলো না। আর এখন তার অফিসে গেলেই মানুষের পিলে চমকে ওঠার অবস্থা হয়।

আওয়ামী লীগের আরেকজন কেন্দ্রীয় নেতা, যিনি তেমন কিছুই করেন না, শুধু রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করেই রাতারাতি ধনী হয়েছেন। দুই বছরে সাভারের আশুলিয়ায় আওয়ামী লীগের এক সহযোগী সংগঠনের নেতা কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। তিনি কোটি টাকা ব্যয়ে আলিশান বাড়ি বানিয়েছেন, কিনেছেন কোটি টাকার গাড়ি। তার কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নেই। এরপরও তার এত সম্পদ কীভাবে হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা। অধিকাংশ জেলা-উপজেলা পর্যায়ের চিত্র অভিন্ন।

ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ‘মন্ত্রিসভার কয়েক জন সদস্য মন্ত্রী হওয়ার পরে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।’

দলটির সম্পাদকমণ্ডলীর একজন সদস্য জানান, যারা হঠাৎ করে ফুলেফেঁপে উঠেছেন, যারা আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন, তাদের সংখ্যা খুবই কম। আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাকর্মী এখনো রাজনীতিকে ধ্যান-জ্ঞান মনে করেন। আদর্শের চর্চা করেন এবং রাজনীতিকে মানুষের সেবা করার মাধ্যম হিসেবে মনে করেন। রাজধানীসহ সারাদেশে এ ধরনের নেতাকর্মীর সংখ্যাই বেশি। এ কারণেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারো কঠোর অবস্থানে যাচ্ছেন।

তিনি আরো জানান, তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় তাদের সম্পত্তি বৈধ নয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে যেন ব্যবস্থা গ্রহণে কোনো কার্পণ্য না করা হয় সে ব্যাপারে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দলীয় ফোরামের একাধিক বৈঠকে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা বারবার বলেছেন, রাজনীতি একটি পবিত্র জিনিস, রাজনীতি মানুষের সেবা করার বিষয়। রাজনীতিকে কেউ যদি সম্পদশালী হওয়ার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করে, তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই হবে। কারণ রাজনীতি কলুষিত হলে সব থেকে বেশি কলুষিত হবে আওয়ামী লীগ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

বাংলাদেশে কোরোনা

সর্বশেষ (গত ২৪ ঘন্টার রিপোর্ট)
আক্রান্ত
মৃত্যু
সুস্থ
পরীক্ষা
২,৯৪৯
৩৭
২,৮৬২
১৩,৪৮৮
সর্বমোট
১৭৮,৪৪৩
২,২৭৫
৮৬,৪০৬
৯০৪,৫৮৪

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
১৭৮,৪৪৩
সুস্থ
৮৬,৪০৬
মৃত্যু
২,২৭৫

বিশ্বে

আক্রান্ত
৩১,২৫৮,৯৬৬
সুস্থ
২২,৮৪২,৬৪৪
মৃত্যু
৯৬৫,৩২৩

এই ওয়েবসাইটে কোনও তথ্য, চিত্র, অডিও বা ভিডিও অন্য ও কোথাও প্রকাশ করা আইনত দন্ডনীয়।

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © desherbarta24.com 2017-2020

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
jpthemes2281