সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪:০৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
গাইবান্ধায় সরকারি হাসপাতালের লোকবল দিয়ে চলছে বৈধ-অবৈধ ক্লিনিক নাগরপুরে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের দক্ষতা ও সচেতনতা শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত বাঁধ ভেঙে গোবিন্দগঞ্জের ২০টি গ্রাম আকস্মিক বন্যায় নতুন করে প্লাবিত পুলিশী নির্যাতন হতে মুক্তি চায় পলাশবাড়ী রিক্সা শ্রমিকেরা পলাশবাড়ী অটোজ এর উদ্বোধন নাগেশ্বরীতে ভিজিএফ’র চাল বিতরণে অনিয়ম কুড়িগ্রামে ২৪টি  স্থানে নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধে ডাম্পিংয়ের কাজ অব্যাহত ভুরুঙ্গামারীতে বিএনপি নেতার হামলার ভয়ে বাড়ি ছাড়া দুই পরিবার জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষ্যে নবাবগঞ্জে মৎস্য পোনা অবমুক্তি করলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফুলছড়ির বন্যা দুর্গত ১শ’ টি পরিবারের জন্য সেনাবাহিনীর মানবিক ত্রাণ সহায়তা

দেশে করোনার ধাক্কায় গরিব হবে অর্ধকোটি মানুষ

নিউজ ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২০
  • ৭৪ বার সংবাদটি ওয়েব থেকে শেয়ার

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধ কার্যত দেশজুড়ে চলছে অঘোষিত লকডাউন। এতে করে থেকে গেছে অর্থনীতির চাকা। এতে করে প্রাতিষ্ঠানিক খাতের পাঁচ কোটির বেশি মানুষের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে। ফলে দারিদ্র্যসীমার কিছুটা ওপরে থাকা লাখ লাখ নারী-পুরুষ আবারো গরিব হতে পারেন।

এসব মানুষ বেকার হয়ে গেলে বা ক্রয়ক্ষমতা কমে গেলে তারা আবারো দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে আসবেন। দেশের প্রায় অর্ধকোটি মানুষ এই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। এতে করে করোনা-পরবর্তী সময়ে দেশে বেড়ে যেতে পারে দারিদ্রতার হার।

করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে ২৬ এপ্রিল থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। পরে তা বাড়িয়ে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়েছে। এতে করে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন দিনমজুররা। আর বেকার হয়ে পড়েছেন পরিবহনশ্রমিক, রিকশাচালক, হোটেল-রেস্তোরাঁকর্মী, ছোট দোকানদার। এছাড়াও নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের অনেকেই চাকরি হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন।

এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির কারণে দারিদ্র্য বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি আরো বেড়ে গেল। এত দিন বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়সহ স্থানীয় পর্যায়ের সমস্যার কারণে মানুষের গরিব হওয়ার শঙ্কা ছিলো। করোনা পরিস্থিতি এখন দেশের সব খাতেই প্রভাব ফেলছে। তবে অনানুষ্ঠানিক খাতে এর প্রভাব বেশি, এরই মধ্যে বহু মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।’

একটি উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘সামনে বোরো মৌসুম। শহর থেকে যেসব লোক গ্রামে গেছেন, তাদের অনেকেই কাজের জন্য কৃষি শ্রমবাজারে ঢুকবেন। ফলে কৃষিশ্রমের বাজারে চাহিদার চেয়ে বেশি শ্রমিক পাওয়া যাবে, যা মজুরি কমিয়ে দেবে।’

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য মতে, ২০১৯ সাল শেষে বাংলাদেশের জাতীয় দারিদ্র্যের হার ছিলো সাড়ে ২০ শতাংশ। অতিদারিদ্র্যের হার সাড়ে ১০ শতাংশ। দেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৫৬ লাখ। সেই হিসাবে দেশে ৩ কোটি ৪০ লাখ গরিব মানুষ আছে। তাদের মধ্যে পৌনে দুই কোটি মানুষ হতদরিদ্র।

প্রথম আলো’র এই প্রতিবেদনে বলা হয়, অর্থনীতির স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ ব্যাহত হলে সব সময়ই কিছু লোকের জীবিকা হুমকির মুখে পড়ে। এতে তারা বেকার হন এবং আবার গরিব হয়ে যান। এমন বিবেচনায় ২০১৫ সালে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) সামাজিক নিরাপত্তাকৌশল প্রণয়ন করার সময় ঝুঁকিতে থাকা মানুষের হিসাব করেছে।

ওই কৌশলপত্রে বলা হয়, দেশে যত গরিব মানুষ আছে, তাদের ২৫ শতাংশের সমান মানুষ দারিদ্র্যসীমার আশপাশে থাকেন। তাদের মধ্যে অর্ধেক মানুষ অর্থনীতি ভালো থাকলে, আয় ভালো হলে দারিদ্র্যসীমা অতিক্রম করে। আবার বাকি সাড়ে ১২ শতাংশ মানুষ, যারা দারিদ্র্যসীমার কিছুটা ওপরে থাকে, তারা অর্থনীতি খারাপ হলে কিংবা ঘূর্ণিঝড়, খরা, বন্যা, জিনিসপত্রের অস্বাভাবিক দাম বাড়লে আবার গরিব হয়ে যায়। এবার করোনার কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে এই শ্রেণির মানুষগুলো। জিইডির ওই হিসাব মতে, দেশে এখন ৩ কোটি ৪০ লাখ গরিব মানুষ রয়েছে। তাদের মধ্যে আবার গরিব হওয়ার ঝুঁকিতে আছে সাড়ে ৪২ লাখ মানুষ।

মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যয় পদ্ধতি দ্বারা দেশে দারিদ্র্য মাপা হয়। একজন নাগরিকের দৈনিক ২ হাজার ১২২ ক্যালরি খাবার গ্রহণ করতে প্রয়োজনীয় আয় করতে না পারলে তাকে গরিব হিসেবে গণ্য করা হয়। আর দৈনিক ১ হাজার ৮০৫ ক্যালরি খাবার গ্রহণ করার মতো আয় না করতে পারলে হতদরিদ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এই ক্যালরি খাবার কিনতে কত টাকা আয় করতে হবে, সেই হিসাবও আছে।

জিইডি একটি হিসাব বলা হয়, চারজনের একটি পরিবারের আয় যদি মাসে ৬ হাজার ৪০০ টাকা হয়, তাহলে ওই পরিবারের সবার জন্য দৈনিক কমপক্ষে ২ হাজার ১২২ ক্যালরি খাবার কেনা সম্ভব হবে। আর একটি পরিবারের আয় যদি ৫ হাজারর ২০০ টাকা হয়, তাহলে তারা ১ হাজার ৮০৫ ক্যালরি খাবার কিনতে পারবে।

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য শামসুল আলম বলেন, ‘করোনার কারণে গরিব হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা ৪০-৪২ লাখ মানুষ আবার গরিব হয়ে যেতে পারে। তাই এবার গরিব হওয়ার সংখ্যা অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি হবে। কারণ, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের সবকিছুই বন্ধ আছে।’

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

বাংলাদেশে কোরোনা

সর্বশেষ (গত ২৪ ঘন্টার রিপোর্ট)
আক্রান্ত
মৃত্যু
সুস্থ
পরীক্ষা
২,৯৪৯
৩৭
২,৮৬২
১৩,৪৮৮
সর্বমোট
১৭৮,৪৪৩
২,২৭৫
৮৬,৪০৬
৯০৪,৫৮৪

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
১৭৮,৪৪৩
সুস্থ
৮৬,৪০৬
মৃত্যু
২,২৭৫

বিশ্বে

আক্রান্ত
৩১,২৬১,৫৪০
সুস্থ
২২,৮৪৫,৮১০
মৃত্যু
৯৬৫,৩৬৮

এই ওয়েবসাইটে কোনও তথ্য, চিত্র, অডিও বা ভিডিও অন্য ও কোথাও প্রকাশ করা আইনত দন্ডনীয়।

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © desherbarta24.com 2017-2020

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
jpthemes2281